অপহরণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই শিশু শিক্ষার্থী উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এক কন্যা শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি চালিত অটোরিকশাটিকেও জব্দ করা হয়েছে। এবং শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

জানা যায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে যায়। ছুটির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

তদন্তে জানা যায়, শিশুটিকে বলা হয়েছে তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গাড়িতে তোলা হয়। এরপর থেকে খোঁজ মেলেনি শিশু ওয়াসিফা জান্নাত। 

পরবর্তীতে সম্ভাব্য জায়গায় খোঁজাখোঁজি করে না পেলে শিশুটির পিতা মোহাম্মদ দেলোয়ার বাদী হয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে মো. ফয়সাল (৩২), মো. রাকিব (২২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশুকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল নিজেকে শিশুটির বাবার মামাতো ভাই বলে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি পরিচিত কয়েকজন সিএনজি চালককে সম্পৃক্ত করেন এবং মুক্তিপণের অর্থ ভাগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ঘটনার পর থেকে পুলিশের কৌশলী তৎপরতায় শিশুটিকে উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত