গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া বাজারের ‘নাঈম কালেকশনস’ বিগত সাত বছর ধরে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের জন্য বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আসছে। দোকানটির স্বত্বাধিকারী মাহমুদুল হাসান নাঈম বলেন, ‘সম্প্রতি বিকাশ থেকে বাংলা কিউআর বসিয়ে দেওয়ায় এখন অন্য ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পেমেন্টও নিতে পারছি। এতে আমাদের বেশ সুবিধাই হলো, কেননা দোকানে পস (পয়েন্ট ওব সেলস) মেশিন না থাকায় ব্যাংকের কার্ড বা অ্যাপ থেকে পেমেন্ট নিতে পারছিলাম না। এখন এক কিউআর দিয়েই সব প্রতিষ্ঠানের পেমেন্ট নিতে পারছি, ফলে দিন শেষে বেচা-বিক্রির হিসাব রাখাও সহজ হচ্ছে।’
পাড়ার মুদি দোকান থেকে শুরু করে শীর্ষ স্থানীয় লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড, সুপারস্টোর ইত্যাদি সর্বত্র বিকাশ কর্তৃক-স্থাপিত বাংলা কিউআর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বর্তমানে দৈনিক লেনদেন ২০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
একটি সমন্বিত, ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম তৈরির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বৃহত্তম মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) বিকাশ দেশজুড়ে প্রায় ৮ লাখ মার্চেন্টে সফলভাবে বাংলা কিউআর স্থাপন করেছে।
ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলা কিউআরের ইন্টারঅপারেবিলিটি একটি যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিলেট শহরের কুমারপাড়ায় অবস্থিত ‘এমএন ফ্যাশন’-এর ম্যানেজার আবু সাঈদ রনি ব্যাখ্যা করেন কীভাবে এই কিউআর তাদের লেনদেনকে সহজ করেছে ‘আমরা আগে প্রতিদিন বিকাশের মাধ্যমে বেশ কিছু পেমেন্ট পেতাম। এখন বিকাশ বাংলা কিউআর স্থাপন করার ফলে, অন্য ব্যাংক থেকেও একই কিউআর কোড ব্যবহার করে কোনো ঝামেলা ছাড়াই পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারছি। আমরা আশা করছি, এই কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি গ্রাহককে ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করবে।’
এ বিষয়ে বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ইন্টারঅপারেবল বাংলা কিউআরের এই ব্যবহার বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রযুক্তির সর্বজনীনতার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ। এখন দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ব্যাংক, মোবাইল আর্থিকসেবা এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের গ্রাহকরা একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করেই নির্বিঘ্নে ক্যাশবিহীন লেনদেন করতে পারছেন।
এই উদ্যোগটি ক্যাশ টাকা বহনের ঝুঁকি কমায়, ব্যবসায়ীদের কেনাবেচার হিসাব সহজ করে এবং ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি করে, যা ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক আর্থিকসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও জোরদার করে।’
ক্যাশলেস ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্ভাবন : দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর স্থাপন করা বিকাশের কৌশলগুলোর একটি অংশমাত্র। মার্চেন্টদের জন্য লেনদেন ভেরিফিকেশনের ঝামেলা দূর করতে বিকাশ নিয়ে এসেছে ‘পেমেন্ট স্পিকার’, যা বাংলাদেশে প্রথম। এই ডিভাইসগুলো লেনদেন সফল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্পিকারে স্পষ্ট ভয়েস নোটিফিকেশনের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে কি না সে বার্তা দেয়। এতে একদিকে যেমন মার্চেন্টের লেনদেন নিরাপদ হয়, অন্যদিকে গ্রাহকের কেনাকাটাও হয় দ্রুত ও সহজ।
এ ছাড়া, ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য একটি বড় সমস্যা হলো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক ঋণ পাওয়া। এই সমস্যা সমাধানে বিকাশ কিউআর লেনদেনের মাধ্যমে তৈরি হওয়া ডিজিটাল ডেটা ব্যবহার করছে। ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে যৌথ একটি পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিকাশ ব্যবসায়ীদের লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করছে, যার ওপর ভিত্তি করে কোনো জামানত ছাড়াই ব্যবসায়ীদের অ্যাকাউন্টে সঙ্গে সঙ্গেই স্বল্পমেয়াদি ডিজিটাল ঋণের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করছে।
গ্রাহক অভ্যাসে পরিবর্তন আনা : তবে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই কিন্তু ‘গ্রাহকের অভ্যাস বদলে দেয় না; দরকার পড়ে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনার। বাংলা কিউআরের ব্যবহার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে বিকাশ ৪৫,০০০-এরও বেশি মার্চেন্টে বিশেষ পেমেন্ট ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। বর্তমানে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে গ্রাহকরা সর্বমোট ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট কুপন উপভোগ করতে পারছেন। এই ক্যাম্পেইনটি চলবে ৩১ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত।
বিকাশ তার ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পার করছে, ঠিক সে সময়টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক বাংলা কিউআর স্থাপনের উদ্যোগটি দেখিয়ে দেয় কীভাবে প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ টাকা পাঠানোর সেবা থেকে ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। সব ধরনের পেমেন্ট গ্রহণের ব্যবস্থা করে দিয়ে বিকাশ শুধু মানুষের পেমেন্ট করার পদ্ধতিই বদলে দিচ্ছে না বরং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া ব্যবসায়ীদেরও ক্ষমতায়িত করছে।