বিপুল সম্ভাবনা আনল বাংলা কিউআর

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:১০ এএম

দেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়লেও বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো দৈনন্দিন কেনাকাটা ও ব্যবসায়িক লেনদেনে নগদ টাকা ব্যবহার করে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার, ফুটপাতের বিক্রেতা এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় এখনো পুরোপুরি আসেননি। সে লক্ষ্যে বাংলা কিউআরের গুরুত্ব ও ভূমিকা নিয়ে দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক নাজমুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় কী ভূমিকা রাখতে পারে?

মো. আনোয়ারুল ইসলাম : বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, একটি অভিন্ন কিউআর কোডের মাধ্যমে গ্রাহক সহজেই বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন। এতে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে। একই সঙ্গে দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

বাংলা কিউআর চালুর ফলে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন?

মো. আনোয়ারুল ইসলাম : গ্রাহকদের জন্য বাংলা কিউআর ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দ্রুত ও সহজে অর্থ পরিশোধ করা। পকেটে নগদ টাকা রাখার প্রয়োজন কমবে। লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়বে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা সহজে পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন। প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। এতে ব্যবসার হিসাব ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে ব্যবসার প্রকৃত লেনদেনের ভিত্তিতে ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে। বাংলা কিউআর লেনদেনের ফলে চুরি, ছিনতাইয়ের ঝুঁকি কমে যাবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে এ পর্যন্ত কী অগ্রগতি হয়েছে?

মো. আনোয়ারুল ইসলাম : অগ্রণী ব্যাংক বাংলা কিউআরকে দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ব্যাংকের গ্রাহকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদেরও বাংলা কিউআরের আওতায় নিয়ে আসা। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহক সচেতনতার ওপরও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। অগ্রণী ব্যাংক এখন পর্যন্ত ৪ হাজার জন মার্চেন্টকে অন বোর্ড করেছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, ফুটপাতের দোকান কিংবা গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাংলা কিউআর কতটা জনপ্রিয় করা সম্ভব?

মো. আনোয়ারুল ইসলাম : আমি মনে করি, এ খাতে বাংলা কিউআরের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে এটি সহজ ও সুবিধাজনক একটি মাধ্যম হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখনো ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা ও ব্যবহার সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলে গ্রাম ও শহর, উভয় জায়গাতেই বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো সম্ভব।

নগদ টাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বাংলা কিউআর কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে?

মো. আনোয়ারুল ইসলাম : নগদ টাকার ব্যবহার কমাতে বাংলা কিউআর অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মানুষ যখন দৈনন্দিন ছোট-বড় কেনাকাটায় সহজে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন, তখন নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন কমে আসবে। এতে অর্থ লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে। নগদ টাকা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খরচ ও ঝুঁকি কমবে। তবে এ জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা আরও বাড়াতে হবে। সর্বস্তরের মানুষকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

গ্রাহকদের জন্য বাংলা কিউআর ব্যবহারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

মো. আনোয়ারুল ইসলাম : সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সচেতনতার অভাব এবং অভ্যাসগতভাবে নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরশীলতা। অনেক গ্রাহক এখনো মনে করেন, নগদ লেনদেনই সবচেয়ে সহজ। এই ধারণা পরিবর্তন করতে হলে বাংলা কিউআরের সুবিধাগুলো মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা সম্পর্কে গ্রাহকদের আস্থা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে কী ধরনের প্রণোদনা দেওয়া উচিত?

মো. আনোয়ারুল ইসলাম : ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে লেনদেনের খরচ কমানো, সহজে কিউআর কোড সরবরাহ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা যেতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত ডিজিটাল লেনদেনকারী ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। যারা বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন, তাদের ব্যবসায়িক লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে ঋণসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল লেনদেনে আরও বেশি আগ্রহী হবেন।

দেশ রূপান্তরের পাঠকদের উদ্দেশে বাংলা কিউআর সম্পর্কে আপনার বার্তা কী?

মো. আনোয়ারুল ইসলাম : দৈনন্দিন লেনদেনে যতটা সম্ভব ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহার করুন। বাংলা কিউআর ব্যবহারকে উৎসাহিত করুন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও বাংলা কিউআর গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত