আট বছর ঝুলে আছে চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮ এএম

দেশের চা শিল্পের সবচেয়ে বড় শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নির্বাচন আট বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়নি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৮ সালের ২৪ জুন অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনের পর আর ভোট হয়নি। ফলে তিন বছরের জন্য নির্বাচিত কমিটিই টানা আট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছে।

দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় সংগঠনের গণতান্ত্রিক চর্চা, জবাবদিহি ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্যানুযায়ী, দেশে ১৭৮টি চা বাগানে নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন ৯৬ হাজারেরও বেশি। তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে পঞ্চায়েত, ভ্যালি ও কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হওয়ায় অনেক বাগানে নির্বাচিত পঞ্চায়েত কমিটির ও মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় সংগঠনের অভ্যন্তরে দলাদলি বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন, উৎপাদনশীলতা ও বাগানের সামগ্রিক পরিবেশে।

নারী চা শ্রমিক মিতালি গোয়ালা বলেন, নিয়মিত চাঁদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন না শ্রমিকরা। ন্যায্য মজুরি, হাজিরা, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং অবসরে যাওয়া শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড নিয়েও নানা জটিলতা রয়েছে।

ভুড়ভুড়িয়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুধীর রিকিয়াশন জানান, প্রায় আট বছর আগে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল। এরপর বহুবার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। নির্বাচনের মাধ্যমেই নেতৃত্বের জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।

খেজুরি চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মহেশ্বর দাস জানান, বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় মালিকপক্ষের সঙ্গে কার্যকরভাবে আলোচনা করা যাচ্ছে না। ফলে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায় ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক বাগানেই অস্থিরতা বাড়ছে।

চা শ্রমিক নেতা আকাশ দোষাদ জানান, নির্বাচন না হওয়ায় সংগঠন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক বাগানে নির্বাচিত কমিটির পরিবর্তে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি জানান।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি জানান, ২০২৩ সালের গঠনতন্ত্র সংশোধনের পর নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব ও ব্যয় ইউনিয়নের ওপর পড়ায় নির্বাচন বিলম্বিত হচ্ছে। অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় অর্থ না পাওয়ার অজুহাতে নির্বাচন ঝুলে রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই এখন ‘নির্বাচন চাই’ বলে শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করছেন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পঙ্কজ কন্দ জানান, নির্বাচন বিলম্বের পেছনে শুধু অর্থসংকট নয়, প্রশাসনিক জটিলতাও রয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিলে দ্রুত তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে বলে আশাবাদী।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান জানান, শ্রমিক সংগঠনের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সময়মতো নির্বাচন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত