ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

পদত্যাগ করেছেন তিন সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি পদে থাকা মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন তিনি। এই অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। এ ছাড়া স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আমি হাতে পেয়েছি। স্পিকার হিসেবে আমি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। ফলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমানে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী তিনি যেদিন জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন, সেদিনই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের শপথও নিয়েছেন। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও দায়িত্ব গ্রহণের সময় এমন শপথ নেন, যাতে স্পিকারের পদ শূন্য থাকলে তিনি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, আজ দুপুর থেকে নানা ধরনের কথাবার্তা শুনছি। কিন্তু প্রকৃত বিষয় হলো, তিনি শারীরিক অসমর্থতার কারণেই পদত্যাগ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, তিনি মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। আমি সবসময় তার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

এদিকে স্পিকারের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন লিখেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।'

সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত