দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পদোন্নতি করি, টাকা নিই—এটা কীভাবে সম্ভব?’

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘অভিযোগ বনাম বাস্তবতা: এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদকে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রকৃত তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা থাকাকালে মন্ত্রণালয়ের পদায়ন-বদলিসংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যাচার বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তথ্যসহ ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করলে এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না। বরং বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংঘটিত একটি পদোন্নতির ঘটনায় তাঁকে জড়ানো হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে একটি ‘প্রেজেন্টেশন’ দেওয়া হয়। এতে তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা এবং দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়।

তিনি বলেন, একটি অভিযোগে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে অর্থ নেওয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে ১১২ জনের চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতেই এই দায়িত্ব বাতিল করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া হয়। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তাঁদের চলতি দায়িত্ব বাতিল করে মন্ত্রণালয়। ফলে সিদ্ধান্তটি ছিল আদালতের রায় বাস্তবায়নের অংশ। এটি তাঁর ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না।

অন্য একটি অভিযোগে ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও পছন্দের স্থানে পদায়নের বিনিময়ে প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়ার প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। অভিযোগটি করা হয় ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল। তবে পদোন্নতির আদেশ হয় ১১ মে। তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়। ফলে এই পদোন্নতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কোনো সুযোগ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সব কটি অভিযোগই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। এই অনুসন্ধান রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুদক কমিশন-সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুনভাবে কমিশন গঠন করা হয়েছে। সেই দুদক রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানো ও হয়রানি করার লক্ষ্যেই অনুসন্ধানটি শুরু করা হয়েছে।’

দুদকের অনুসন্ধানকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও রাজনৈতিকভাবে হয়রানি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত