যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি বরখাস্ত

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১ এএম

যৌন অসদাচরণ ও কর্তব্যের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) আইসিসির ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিজ) এক গোপন ভোটের মাধ্যমে তাকে অপসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিস’-এর নির্বাহী ভোটাভুটিতে তাকে পদচ্যুত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তার আইনজীবী দল। তবে এই পদক্ষেপকে পুরোপুরি রাজনৈতিক ও পক্ষপাতমূলক বলে আখ্যায়িত করেছে তারা।

২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র চাপের মুখে পড়েছিল আইসিসি। পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসন করিম খান এবং আদালতের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

করিম খানের আইনজীবী প্রধান তৈয়ব আলী এক বিবৃতিতে বলেন, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ নজরদারি সংস্থার তদন্ত পর্যালোচনা করে আইসিসির একটি বিচারক প্যানেল সর্বসম্মতিক্রমে জানিয়েছিল যে, করিম খানের বিরুদ্ধে কোনো অসদাচরণ বা দায়িত্ব লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলেনি।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় প্যানেলের মতামত উপেক্ষা করে এবং তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের ফেয়ার সুযোগ না দিয়েই বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আইসিসির নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার ওপর মারাত্মক আঘাত হানবে।

৫৬ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ ব্যারিস্টারের বিদায়ের পর সাময়িকভাবে আইসিসির কৌঁসুলি কার্যালয়ের নেতৃত্ব দেবেন দুই উপ-কৌঁসুলি নাঝাত শামীম খান এবং মামে মানদিয়ায়ে নিয়াং। নতুন প্রধান কৌঁসুলি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও আগামী বছরের আগে নতুন নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আইসিসি স্পষ্ট করেছে, প্রধান কৌঁসুলির বরখাস্তের কারণে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ এই পরোয়ানা বাতিল বা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কেবল বিচারকরাই নিতে পারেন।

করিম খানের বরখাস্তের পর যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার দাবি করেন, করিম খান তার নিজস্ব যৌন কেলেঙ্কারি থেকে নজর সরাতে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছিলেন। তিনি আইসিসিকে একটি ক্যাঙ্গারু কোর্ট বলে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানান।

অন্যদিকে, দ্য হেগে অবস্থিত ফিলিস্তিনি মিশন ইসরায়েলি বক্তব্যকে ধৃষ্টতাপূর্ণ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, স্বাধীন তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক পরোয়ানার সাথে এই ভোটের সম্পর্ক টেনে আইসিসিকে দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, তারা রোম সনদের অধীনস্থ সকল অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের বিচার নিশ্চিতে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত