বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এক পাতার পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দায়িত্ব ছেড়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে তাঁর স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে ১৯টি বানান ভুল ও ভাষাগত অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্পিকারের উদ্দেশে লেখা পদত্যাগপত্রে ‘স্পিকার’ শব্দটি তিনি লিখেছেন ‘স্পীকার’। বাংলা বানানরীতি অনুযায়ী বিদেশি উৎসের এ শব্দটি ই-কার দিয়ে ‘স্পিকার’ লেখা শুদ্ধ।
পত্রের বিষয় হিসেবে লেখা হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ’। ভাষাবিদদের মতে, এখানে ‘পদ’ শব্দটি দুইবার ব্যবহৃত হওয়ায় বাহুল্য দোষে দুষ্ট। এর পরিবর্তে ‘রাষ্ট্রপতির পদ হতে ত্যাগ’ বা শুধু ‘পদত্যাগ’ লেখা অধিক উপযুক্ত।
সম্বোধনে ‘শ্রদ্ধাজনেষু’ ব্যবহার করা হয়েছে, যা অভিধানসম্মত নয়। শুদ্ধ রূপ ‘শ্রদ্ধাভাজনেষু’।
তারিখ লেখার ক্ষেত্রেও অসংগতি রয়েছে। পত্রে লেখা হয়েছে ‘২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল’। যেহেতু ‘খ্রিষ্টাব্দ’ ও ‘সন’ একই অর্থ বহন করে, তাই দুটি একসঙ্গে ব্যবহার বাহুল্য। ‘২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ এপ্রিল’ বা ‘২০২৩ সনের ২৪ এপ্রিল’-যেকোনো একটি ব্যবহারই যথাযথ।
এ ছাড়া ‘নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে’ বাক্যাংশের পরিবর্তে ‘নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য রেখে’ ব্যবহার অধিক প্রাঞ্জল মত ভাষাবিদদের।
পত্রে ‘কোনো’-এর স্থলে ‘কোন’ ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ দুটি শব্দের অর্থ ও প্রয়োগ ভিন্ন। একইভাবে ‘হৃদরোগ’ ও ‘হৃদযন্ত্র’ লেখা হলেও প্রমিত বানান ‘হৃদ্রোগ’ ও ‘হৃদ্যন্ত্র’। ‘ডায়াবেটিস’-এর পরিবর্তে শুদ্ধ বানান ‘ডায়াবিটিস’।
এ ছাড়া ‘পরিক্ষা’ ও ‘ইদানিং’ লেখা হয়েছে, যার শুদ্ধ রূপ যথাক্রমে ‘পরীক্ষা’ ও ‘ইদানীং’। ‘রোগ সমূহের’ লেখাটিও ভাষারীতি অনুযায়ী অসংগত; শুদ্ধ রূপ ‘রোগসমূহের’। একইভাবে ‘অসমার্থ্যতা’ শব্দটিকে অপ্রমিত বলা হয়েছে; ‘অসমর্থতা’ বা প্রসঙ্গভেদে ‘অসমার্থ্য’ ব্যবহারই গ্রহণযোগ্য।
বিরামচিহ্ন ও বিন্যাসেও কয়েকটি অসংগতি রয়েছে। যেমন, ‘৫০(৩) অনুচ্ছেদ’ লেখার ক্ষেত্রে বন্ধনীর আগে-পরে প্রয়োজনীয় ফাঁক রাখা হয়নি। ভাষারীতি অনুযায়ী ‘৫০ (৩) নং অনুচ্ছেদ’ লেখা অধিক সমীচীন। এছাড়া কয়েকটি স্থানে অপ্রয়োজনীয় দাঁড়ি ব্যবহারের বিষয়টিও নজরে এসেছে।