কৃষকেরা ফেরেন খালি হাতে, সার যায় অন্য ইউনিয়নে

কৃষকেরা প্রয়োজনের সময় দোকানে গিয়ে সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। অথচ সোমবার বন্ধ দোকান থেকে অন্য ইউনিয়নের গ্রামে পাঠানো হয়েছে ১১ বস্তা সার।

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের জমদুয়ারা বাজারের খুচরা সার ডিলার মারুফ হোসেনের দোকান নিয়মিত খোলা থাকে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকেরা প্রয়োজনের সময় দোকানে গিয়ে সার না পাওয়ার অভিযোগ করলেও সোমবার তাঁর দোকান থেকে ১১ বস্তা সার অন্য ইউনিয়নের একটি গ্রামে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে অটোরিকশায় করে এসব সার শিমুলিয়া ইউনিয়নের শাকরাইল গ্রামের আব্দুস সালামের কাছে পাঠানো হয়। এর মধ্যে চার বস্তা পটাশ ও সাত বস্তা টিএসপি ছিল।

আব্দুস সালাম মুঠোফোনে জানান, তাঁর ফুফাতো ভাই মারুফ হোসেনের কাছ থেকে তিনি ১১ বস্তা সার নিয়েছেন। তবে বস্তাপ্রতি কত টাকা দরে সার নিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি। অন্য এলাকায় সার নেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের অনুমতি রয়েছে কি না জানতে চাইলে এ বিষয়েও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মারুফ হোসেনের সার বিক্রির দোকানটি প্রায়ই বন্ধ থাকে। মাঝে মাঝে দোকান খোলা হলেও কিছুক্ষণ পর আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে প্রয়োজনের সময় সার কিনতে এসে কৃষকদের ফিরে যেতে হয়।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে জমদুয়ারা বাজারে গিয়ে মারুফ হোসেনের সার বিক্রির দোকানটি বন্ধ পাওয়া যায়। পাশের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, দোকানটি নিয়মিত খোলা থাকে না। তবে তাঁদের দাবি, দোকানে সার মজুত রয়েছে।

তেওতা ইউনিয়নের বিএডিসি সার ডিলার আনন্দ কুমার ঘোষ জানান, গত মাসের ১৯ তারিখে তাঁর কাছ থেকে মারুফ হোসেন ২০ বস্তা ইউরিয়া, ২০ বস্তা টিএসপি ও ২৫ বস্তা পটাশ নেন। সব মিলিয়ে তিনি ৬৫ বস্তা সার নেন। চলতি মাসে তিনি এখনো কোনো সার নেননি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, গত মাসে নেওয়া ৬৫ বস্তা সারের কতটুকু বিক্রি হয়েছে, কতটুকু মজুত রয়েছে এবং সোমবারের ১১ বস্তা সার কীভাবে অন্য এলাকায় পাঠানো হলো—এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এসব সার কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে কি না, বিক্রির রসিদ ও রেজিস্টারে তার হিসাব রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে তেওতা ইউনিয়নের ব্লক অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিরাজ আহমেদ জানান, তিনি এক মাস আগে শিবালয়ে যোগ দিয়েছেন। কৃষকদের কৃষি কার্ডের তালিকা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি আগে খোঁজ নিতে পারেননি। মঙ্গলবার তিনি ওই দোকান পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেবেন।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত