খুলছে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাল

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দীর্ঘ এক যুগ প্রতীক্ষার পর অবশেষে খুলছে চীন-বাংলাদেশ অর্থনীতির স্বপ্ন দুয়ার। কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ-পূর্ব পাড়ে শিল্পায়নের যে স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে লালিত হয়ে আসছিল, তা এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেড) প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে নেওয়া দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিসিএল) চেয়ারম্যান। 

অনুষ্ঠানে সিইআইজেড প্রকল্পের ওপর একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হবে। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে একটি সাব-লিজ চুক্তি সই হবে। পরে সিইআইজেডের স্লোগান উন্মোচন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের উদ্বোধন, প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হবে।

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। বেজার বাস্তবায়নে এ প্রকল্পের আওতায় জেটি সংযোগ সড়ক, অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস সঞ্চালন সুবিধা, কেন্দ্রীয় বর্জ্য তরল শোধনাগার (সিইটিপি), বহুমুখী জেটি, কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, সীমানা প্রাচীর এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য এ অবকাঠামো প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ থেকে এবং ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকার বহন করবে।

চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) সুবিধার আওতায় বৈদেশিক অর্থায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের আওতায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারায় প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে সিইআইজেড গড়ে তোলা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চালু হলে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট হবে, এক লাখের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং চট্টগ্রাম আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী কৌশলগত অবস্থানের কারণে সিইআইজেড বাংলাদেশের শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত