হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান বলেছে, এই জলপথে সামুদ্রিক চলাচলে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
রবিবার (২৬ জুলাই) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, শুক্রবার ও শনিবার তেহরানে ইরান ও ওমানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ-এর বরাতে তিনি বলেন, দুই দেশ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে অভিন্ন নীতি ও কার্যকর পরিচালনাগত (অপারেশনাল) ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিনিময় করেছে।
বাঘায়ি আলোচনাকে 'ফলপ্রসূ' উল্লেখ করে বলেন, এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ওমানের প্রতিনিধিদল তেহরান ত্যাগ করেছে। তবে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি ও রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে জুন মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করে। এতে যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনার পথ তৈরি হয়।
তবে ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার পর যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচলের নিশ্চয়তা দিতে হবে। অন্যদিকে ইরানের অবস্থান হলো, তাদের উপকূলঘেঁষা এই কৌশলগত জলপথে জাহাজ চলাচল এমন একটি ব্যবস্থার অধীন হবে, যা তেহরান নিজেই পরিচালনা করবে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস শনিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা প্রতিদিনের হামলার ধারাবাহিকতা আপাতত বন্ধ হয়েছে।