টানা বৃষ্টি-জোয়ারে সন্দ্বীপে বিপর্যস্ত মৎস্য খাত

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৫১ পিএম

টানা ভারী বৃষ্টি, অতিবর্ষণ, জোয়ারের পানি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত পুকুর, মাছের ঘের ও জলাশয় প্লাবিত হওয়ায় ভেসে গেছে বিপুল পরিমাণ মাছ ও মাছের পোনা। এতে শতাধিক প্রান্তিক মৎস্যচাষী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় মৎস্যচাষীদের দাবি, সরকারি হিসাবের তুলনায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।

সন্দ্বীপ উপজেলা মৎস্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৪১২টি পুকুর প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরগুলোর মোট আয়তন প্রায় ৫৭ হেক্টর। এসব পুকুর থেকে প্রায় ৬৫ মেট্রিক টন মাছ এবং ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার মাছের পোনা ভেসে গেছে। ভেসে যাওয়া মাছের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

এ ছাড়া পুকুরের বাঁধ, ঘের ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আরও প্রায় ২৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

তবে মাঠপর্যায়ের চাষিদের ভাষ্য, অনেক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

মুছাপুর ইউনিয়নের মৎস্যচাষী করিম বলেন, ব্যাংক থেকে ৮ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে প্রায় ১০ হেক্টর জলাশয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সব মাছ ভেসে গেছে। এখন ঋণ পরিশোধ কীভাবে করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

সন্তোষপুর ইউনিয়নের মৎস্যচাষী নুরুল আমিন বলেন, গত ২০ বছর ধরে মাছ চাষ করছি। সরকারি ইজারা নেওয়া প্রায় ২২ হেক্টর জলাশয়ে উৎপাদিত প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ একদিনেই ভেসে গেছে।

মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ফোরকান উদ্দিন রিজভী বলেন, টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পশ্চিম মুছাপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক মৎস্যচাষীর বছরের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এসব মাছ, যা জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে।

সন্দ্বীপ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুল্লাহ বলেন, টানা বৃষ্টি ও প্লাবনে উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারি সহায়তা পাওয়া গেলে তারা দ্রুত পুনরায় মাছ চাষ শুরু করতে পারবেন।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীরা দ্রুত আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে পুনঃঋণ এবং বিনামূল্যে মাছের পোনা বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ না নিলে অনেক প্রান্তিক চাষী স্থায়ীভাবে মাছ চাষ থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত