বাউফলে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা আদায়, প্রতিরোধের মুখে ফেরত

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফলে ঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক হিন্দু পরিবারের কাছে সাংবাদিক পরিচয়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে নগদ ২০হাজার টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে স্থানীয়দের তোপের মুখে সে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন ওই সাংবাদিক।

ওই সাংবাদিকের নাম এনামুল হক এনা। সে বাংলাদেশ সরকারি সংবাদ সংস্থা (বাসস) এবং দৈনিক এদিন পত্রিকার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজিসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে চলছেন।

গতকাল রবিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার হাসপাতাল রোডের ইসলামী ব্যাংকের সামনের সড়কে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় জনতা সাংবাদিক নামধারী এনাকে আটক করে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে জানান, গত ৩ বছর আগে একটি মুসলিম পরিবারের মেয়ের সাথে দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের রবিন্দ্র মন্ডলের ছেলে শাওন মন্ডল নামের হিন্দু পরিবারের একটি ছেলের সাথে বিয়ে হয়। ওই ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে এনামুল হক এনা এবং রিয়াজ নামের ২ সাংবাদিকসহ মোট ৪ জন ওই হিন্দু বাড়িতে যান। এ ঘটনা চারিদিকে জানাজানি হলে মুসলিমরা তাদের বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দিবে বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এনা।

হিন্দু পরিবারটির আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় তারা ৩০হাজার টাকা চাঁদায় রফাদফা করেন। এরমধ্যে নগদ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং ১০ হাজার টাকা কয়েকদিন পরে পরিশোধ করবেন বলে কথা হয়।

ওই সাংবাদিকদের মধ্য থেকে রিয়াজ নিজেকে ডিবি পুলিশ দাবি করে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয় দেখান। হিন্দু পরিবারের লোকেরা সাংবাদিকদের কাউকেই চিনতেন না।

ঘটনা জানাজানি হলে বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির ওই টাকা সাংবাদিক এনার কাছ থেকে উদ্ধার করে হিন্দু পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন।

টাকা ফেরত নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় ইসলামী ব্যাংকের সামনে সাংবাদিক এনা ও রিয়াজকে দেখে চিহ্নিত করে স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ করেন। এতে লোকজন জড়ো হয়। পরে স্থানীয় জনতা এনাকে চ্যালেঞ্জ করলে এনা ওই ঘটনায় তার সাথে মো. রিয়াজসহ অপর আরও ২জন সহযোগী নাম বলেন। এ ঘটনা সাথে সাথে লাইভে সম্প্রচার করেন কয়েকজন সংবাদকর্মীসহ স্থানীয়রা। মুহুর্তেই তা ভাইরাল হয়।

সংবাদ প্রকাশ করার জেরে বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক খবরের কাগজের বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি জিএম মশিউর রহমান মিলনকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এনা। পরে রাতেই মিলন বাউফল থানায় নামধারী সাংবাদিক এনার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এ বিষয়ে জিএম মশিউর রহমান মিলন বলেন, ২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এনা বাউফলে প্রবেশ করে। জামায়াতে ইসলামী’র বাউফল উপজেলার সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের ছত্র-ছায়ায় নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। এখানে সে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করে তাদের মাধ্যমে চাঁদা করে চলছেন। প্রায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সাংবাদিক তৈরি করে যখন যাকে কাজে লাগে সেটা কাজে লাগিয়ে অন্যায় অপকর্ম করে আসছেন এনা। সে সাংবাদিক সমাজের কলঙ্ক বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে এনামুল হক এনা সাংবাদিকদের বলেন, এই বিপদের সময় আমাকে হেল্প করেন। ওখানে আমি একা ছিলাম না। আমার সাথে জসিম, নাজিম ও রিয়াজ ছিল। কিন্তু আমাকে একা ফাঁসানো হইছে।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে এএসপি সার্কেল (বাউফল) রাতেই হিন্দু পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত