পটুয়াখালীর গলাচিপায় মাছের ঘেরের পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের ভবনের পাশ ঘেঁষে মাটি কাটায় ভবনটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম সবুজ গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ১৩৪ নম্বর ছোট শিবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে মাঠ ও রাস্তা কাটার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বেড়িবাঁধের নিচ দিয়ে পাইপের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু পাইপ বন্ধ করে মাছের ঘের করায় এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পরে ঘেরের পানি বের করে দিতে ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের মাঠ ও রাস্তা কেটে পানি নিষ্কাশন করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, মাঠ কাটার সময় তারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা উপেক্ষা করা হয়। এ সময় তাদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক শরীফ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে মাঠ কাটা হয়েছে। তবে মাঠ না কেটেও বিকল্প পথে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল। এ বিষয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চেয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তুহিন বলে, ‘মাঠ কেটে ফেলায় আমরা এখন খেলাধুলা করতে পারছি না। ভবনের পাশ ঘেঁষে মাটি কাটায় চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।’
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, যে মাছের ঘেরের পানি সরাতে বিদ্যালয়ের মাঠ কাটা হয়েছে, ওই ঘেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অংশ রয়েছে এবং তিনি সেখান থেকে লভ্যাংশ পান। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহাবুব বলেন, বিদ্যালয়ের একটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম সবুজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম ছগির বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকসহ কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠ কাটার ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’
দেশের স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু ভাববেন না: ব্যারিস্টার ফুয়াদ