চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নির্মাণাধীন ১৫০ শয্যার ‘বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট’ এর অবকাঠামোগত কাজের প্রায় অর্ধেক শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে আন্তর্জাতিক মানের এই বিশেষায়িত হাসপাতাল ভবনটির নির্মাণকাজ শেষে এই তথ্য জানান রাষ্ট্রদূত।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ও চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।
পরিদর্শন শেষে কাজের গতি ও সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত কাজের প্রায় অর্ধেক শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি, ২০২৭ সালের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ করে এটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই ইউনিট চালু হলে অগ্নিদগ্ধ ও গুরুতর দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত খুলবে। বর্তমানে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হতে হয়, যার ফলে পথেই অনেকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। হাসপাতালটি চালু হলে দ্রুত ও আধুনিক চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার মাধ্যমে অকাল মৃত্যু কমানো সম্ভব হবে।
তিনি জানান, চীনের দেওয়া প্রায় ১৮০ কোটি টাকা অনুদানে নির্মিত হচ্ছে ছয়তলাবিশিষ্ট এই অত্যাধুনিক অবকাঠামো। এতে চারটি বিশ্বমানের অপারেশন থিয়েটার, আধুনিক আইসিইউ, পুরুষ, নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা এইচডিইউ (হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট) সহ আন্তর্জাতিক মানের সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে চার শতাধিক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
এ সময় চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি ও সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার, কুমিল্লা, ফেনী ও পার্বত্য তিন জেলার কোটি মানুষের নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হবে এই ইউনিট।
পরিদর্শনকালে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন পরিদর্শকদের কাছে প্রকল্পের নকশা ও অবকাঠামোগত চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় চীনা প্রতিনিধিদলের সদস্য ছাড়াও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালীসহ হাসপাতাল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
