পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে (পিওকে) আইনসভা নির্বাচন বর্জনের দাবিতে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। সূত্র এনডিটিভি।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, পিওকের রাওয়ালাকোটের ড্রেইক এইটথ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালালে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মুখপাত্র উমর নাজির কাশ্মীরির ভাই উসমান নাজির। নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া গত ৫ জুন থেকে পিওকেজুড়ে নির্বাচন বর্জনের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মোট ৮০ জন নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে স্থানীয় সূত্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে সড়কে বিক্ষোভকারীদের মরদেহ পড়ে থাকতে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে জনতার দিকে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পিওকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী আকিল ভাই এক ভিডিও বার্তায় বলেন, 'পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। রাওয়ালাকোটে মরদেহ ও আহত মানুষে ভরে গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের প্রতি আমাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।'
তার অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন এবং নিহতদের মরদেহ বহন করতে করতে স্বজনরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (এএসি) সদস্যদের ওপরই মূলত অভিযান পরিচালনা করছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ পিওকেজুড়ে ১৪ হাজারের বেশি সশস্ত্র নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করেছে বলে খবরে বলা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্নাইপারও মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী জীবন্ত গুলি ও দূরপাল্লার টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া আন্দোলন দমনে পিওকের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের ৫৩ সদস্যের আইনসভায় সরাসরি নির্বাচিত হওয়ার জন্য ৪৫টি আসনে তিন ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। বাকি আটটি আসন নারী, প্রযুক্তিবিদ ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত।
এরই মধ্যে ২৭ জুলাই মিরপুর বিভাগের ১৩টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ২ আগস্ট মুজাফফরাবাদ বিভাগের ৯টি আসন ও ১২টি শরণার্থী আসনে ভোট হবে। আর ১০ আগস্ট পুঞ্চ বিভাগের ১১টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে নিহত, আহত এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগসহ এ প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবির ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
