শিশুদের শরীরে ব্লাড ও ব্রেন ক্যান্সারের প্রবণতা বেশি

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ পিএম

বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় চার লাখ শিশু ও কিশোর ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে শিশু ক্যান্সারের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে রক্তের ক্যান্সার ও মস্তিষ্কের ক্যান্সারের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) শিশু ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি (পিএইচওএসবি) আয়োজিত সচেতনতামূলক র‌্যালি ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সকাল ৯টায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের কর্মসূচির মূল বার্তা ছিল—‘ভয় নয়, সচেতনতা। বিলম্ব নয়, সময়মতো চিকিৎসা।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা এবং সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে শিশু ক্যান্সারের অনেক ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক শিশু সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পায় না।

পিএইচওএসবির সাধারণ সম্পাদক ডা. চৌধুরী সামছুল হক কিবরিয়া বলেন, শিশু ক্যান্সার মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। চিকিৎসক, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে শিশু ক্যান্সার নিয়ে অযথা ভয় এবং চিকিৎসা গ্রহণে বিলম্ব কমানো সম্ভব।

অধ্যাপক ডা. এম.এ. মান্নান বলেন, বাংলাদেশে শিশু ক্যান্সারের প্রকৃত সংখ্যা এখনো সম্পূর্ণভাবে জানা যায় না। দেশে এখনো পূর্ণাঙ্গ জাতীয় শিশু ক্যান্সার নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন গবেষণা ও হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে অনেক শিশুর রোগ সময়মতো শনাক্ত হয় না এবং অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায়ও আসতে পারে না।

তিনি বলেন, দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, চিকিৎসার উচ্চ ব্যয়, চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর অসুবিধা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সহায়ক চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা এবং চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া—এসব শিশু ক্যান্সার চিকিৎসার বড় চ্যালেঞ্জ।

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিনের জ্বর, অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে ভাব, শরীরে অকারণ গুটি বা পেট ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী হাড়ের ব্যথা, চোখের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা শিশুর আচরণ ও শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

অধ্যাপক ডা. এম.এ. মান্নান বলেন, এসব উপসর্গ সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়লে তারা সাধারণ অসুস্থতা ভেবে দীর্ঘদিন অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন। এতে রোগ দ্রুত শনাক্ত এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, শিশু ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয়। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক শিশুই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে। এজন্য দেশে শিশু ক্যান্সারের তথ্য সংরক্ষণ ও নিবন্ধন ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি চিকিৎসার সুযোগ আরও বিস্তৃত এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত