চট্টগ্রামে সবজির বাজারে হাঁসফাঁস ডিম-মুরগিও চড়া

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৪ এএম

চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে সবজির ঊর্ধ্বমুখী দামের বোঝা বইতে বইতে হাঁসফাঁস করছেন সাধারণ ক্রেতারা। শতকের ঘর পার হওয়া সবজির দাম এই সপ্তাহেও কমার  তেমন কোনো লক্ষণ নেই, অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৬০ টাকার ঘরে। তার ওপর সাগরে সতর্ক সংকেতের অজুহাতে মাছের কেজিপ্রতি বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। কিছুটা স্থির থাকলেও সাধারণের নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে মুরগি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বাজার তদারকির অভাব ও বিক্রেতাদের অজুহাতকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। শুক্রবার নগরীর কাজির দেউড়ি, পাহাড়তলী ও ফইল্লাতলী বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজার পরিস্থিতির এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, সিংহভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকার ওপরেই আটকে আছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকায়। টমেটোর কেজি হাঁকা হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা। ঢেঁড়স ও ঝিঙার দাম ১০০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে। কাঁকরোল ১০০ থেকে ১২০, ধুন্দল ১০০ থেকে ১২০, শসা ৭০ থেকে ১২০ এবং বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে। সবচেয়ে বেশি লাফিয়েছে কাঁচা মরিচের দাম, কেজিতে বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। ফুলকপির দাম ঠেকেছে ২৫০ টাকায়।

এছাড়া প্রতি কেজি গাজর ১২০ টাকা, কচুর ছড়া ৭০ থেকে ৮০, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ১০০, পটোল ৮০, করলা ১৬০, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাশ্রয়ী বলতে কেবল পেঁপে কেজিপ্রতি ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ফইল্লাতলী বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মাদ্রাসা শিক্ষক শাফায়াত উল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সবজির বাজারে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। প্রায় সব সবজির দামই ১০০ টাকার ওপরে। আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো এখন দায় হয়ে পড়েছে। কাজির দেউরি বাজারের একজন সবজি বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, সবজির দাম সামান্য কমেছে। তবে তা উল্লেখযোগ্য না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।

মাছের বাজারে চলতি সপ্তাহে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে সাগরের কয়েক দিনের সতর্ক সংকেত। কাজির দেউরি বাজারের মাছ ব্যবসায়ী বাইজিদ সওদাগর বলেন, সিগন্যালের (সতর্ক সংকেত) কারণে সাগর থেকে বোট আসতে পারেনি। সরবরাহ কম থাকায় সামুদ্রিক মাছের কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

বাজারে আকারভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। চাষের পাঙাশ ২০০ টাকা হলেও সাগরের পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। রুই ৪০০ থেকে ৪৮০ টাকা, কাতল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, কোরাল ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং বোয়াল ৭০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া লইট্টা ২০০ থেকে ২৪০ টাকা, পোয়া ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, বাটা ৫৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, মুরগির বাজার অনেকটাই গত সপ্তাহের মতো চড়া। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭৫ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি কেজিতে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাহাড়তলী বাজারের মুরগি বিক্রেতা সুজন হাওলাদার বলেন, বাজারে ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ এখনো কম। তাই দাম কমার কোনো সুযোগ হয়নি, গত সপ্তাহের দর ধরেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

মাংসের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৯৮০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজনে।

মসলা ও নিত্যপণ্যের বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৮ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, রসুন ১৬০ টাকা এবং আদা ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত