ঢাকার কেরানীগঞ্জে নকল ইয়াবা তৈরির ‘কারখানার’ সন্ধান পেয়েছে র্যাব। এ সময় থেকে ইয়াবার চার কারিগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলোÑ মূলহোতা আলমগীর ওরফে আন্ডে, তার সহযোগী আলী আরমান, শাহজাহান ও সোনিয়া। উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত চারজনই আগে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল। ধীরে ধীরে ইয়াবা তৈরির কৌশল রপ্ত করে দুবছর আগে কারখানা গড়ে তোলে। প্রতিদিন তারা আড়াই থেকে ৩ হাজার ইয়াবা তৈরি করত। প্রতি পিস ইয়াবা বিক্রি করত ২২০ টাকায়। অর্ডার পেলে স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা ইয়াবা তৈরি করে দিত।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল মধ্যচর দক্ষিণ বালুচর এলাকায় ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে অভিযান চালিয়ে এক হাজার ৯৬৮ পিস ইয়াবা, বিভিন্ন ধরনের পাউডারসদৃশ কাঁচামাল, ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি ওজন পরিমাপক যন্ত্র জব্দ করা হয়। এ সময় চক্রটির চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে আলমগীরের বিরুদ্ধে ঢাকার রামপুরা, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানায় তিনটি মাদক মামলা রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ঢাকায় আরও কয়েকটি ইয়াবা তৈরির কারখানা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলোর সন্ধানে কাজ করছে র্যাব।
এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত ডিআইজি আরও বলেন, ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালগুলো বৈধ এবং বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার করা হয়। তবে গ্রেপ্তার চক্রটি এসব কাঁচামাল ব্যবহার করে ইয়াবা উৎপাদনের পদ্ধতি তৈরি করেছে। কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানতে গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। চক্রটি কামরাঙ্গীরচর ও পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাদের মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত।
