আর্জেন্টিনা দলের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন দেশটির প্রেসিডেন্ট

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

বিশ্বকাপের মঞ্চে রাজনৈতিক প্রতীক বা স্লোগান ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। উত্তর আমেরিকায় সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের পতাকা প্রদর্শনের সূত্র ধরে নিজ দেশের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ওপর এবার প্রকাশ্যেই নিজের ক্ষোভ ও অসন্তোষ ঝেড়েছেন তিনি।

এ নিয়ে আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্টের স্পষ্ট কথা, খেলাধুলার সঙ্গে কখনোই রাজনীতিকে মেলানো উচিত নয় এবং দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের বিষয়টি কেবল কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমেই হওয়া প্রয়োজন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বিখ্যাত রকস্টার এলভিস প্রিসলির একটি উদাহরণ টানেন মিলেই। তিনি জানান, ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রিসলি তাদের বলেছিলেন যে তিনি রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেন না, তিনি বিনোদন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত একজন মানুষ। এই প্রসঙ্গ টেনে আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তেল আর পানি মেশানো ঠিক নয়; এটি একটি খেলা, একটি গেম।’

এ সময় কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্ক্যালোনি যা বলেছেন, আমি তার সঙ্গে একমত।’ এরপর খেলোয়াড়দের ভূমিকা ও রাজনীতিবিদদের ভূমিকার তফাৎ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই মুহূর্তের আবেগের কারণে খেলোয়াড়েরা এটি করতে পারেন। একজন রাজনীতিবিদের ক্ষেত্রে সেটি হতে পারে না, কারণ তাদের বক্তব্য যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হতে পারে।’

আলোচনার একপর্যায়ে কিংবদন্তি ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনার ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক গোলগুলোর প্রসঙ্গও টেনে আনেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংযত থাকতে হবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার গোল, যেকোনোটিই হোক না কেন ফকল্যান্ডস ফিরিয়ে দেয়নি।’

তবে বর্তমান সরকারের আমলে কূটনৈতিক উপায়ে দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব আদায়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে মিলেই বলেন, ‘আমরা কূটনীতির মাধ্যমে পুনরুদ্ধারের পথে অগ্রগতি করেছি। আমরা জাতিসংঘকে দিয়ে ইংল্যান্ডকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করিয়েছি এবং সেটি ইতিমধ্যে ঘটে গেছে। আমরা এত কার্যকরভাবে কূটনৈতিক কাজ পরিচালনা করি যে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ইংল্যান্ডের কিছু অংশও আমাদের সমর্থন প্রকাশ করেছে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত