ক্রিকেট থেকে বর্শা নিক্ষেপ: শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাথিরাজের ইতিহাস

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

একসময়ের পেস বোলার থেকে বিশ্বমানের জ্যাভলিন থ্রোয়ার হয়ে ওঠা রুমেশ তারাঙ্গা পাথিরাজ এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়লেন। শুক্রবার গ্লাসগোর স্কটস্টন স্টেডিয়ামে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের চমকে দিয়ে শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রথম জ্যাভলিন স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নেন ২৩ বছর বয়সী এই তারকা।

৮৯.৭৫ মিটারের এক দীর্ঘ দূরতে্ব বর্শা গেথে স্বর্ণ জেতেন রুশ। এটি গত ২০ বছরের মধ্যে কমনওয়েলথ গেমসে শ্রীলঙ্কার প্রথম স্বর্ণপদক। ২০২০ টোকিও অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ভারতের নীরজ চোপড়া ৮৫.৮৩ মিটার থ্রো করে রৌপ্য পদক পান। ভারতেরই যশ বীর সিং ৮৫.৪১ মিটার থ্রো করে ব্রোঞ্জ নিজের নামে করেন। বহুল চর্চিত ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ এই ম্যাচে জমেনি; অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের আরশাদ নাদিম ৭৭.৪১ মিটার থ্রো করে নবম স্থানে থেকেই প্রতিযোগিতা শেষ করেন। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক ব্রোঞ্জজয়ী গ্রেনাডার অ্যান্ডারসন পিটার্স ৮৩.৮৮ মিটার থ্রো করে চতুর্থ স্থানে থাকেন।

রুমেশের এই অ্যাথলেটিক্স যাত্রার সূচনা ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে নয়, হয়েছিল ক্রিকেটের বাইশ গজে। অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ে নিয়মিত ১৩০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে বোলিং করতেন তিনি। সেই সময় তাঁর গতি শ্রীলঙ্কার বর্তমান জাতীয় ও আইপিএল বোলার এশান ক্যালিঙ্গার পরেই ছিল। 
পরবর্তীতে কোচ টনি প্রসন্ন তাঁকে জ্যাভলিনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। রুমেশ বলেন, "কোচ টনিই আমাকে জ্যাভলিনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি শুধু আমার কোচ নন, জীবনের শিক্ষা গুরুও। আজও অবসর পেলে বন্ধুদের সাথে গ্রামে সফ্টবল ক্রিকেট খেলি, যা আমাকে মানসিক প্রশান্তি দেয়।"

ক্রিকেটপ্রেমী শ্রীলঙ্কায় এখন অ্যাথলেটিক্স নিয়ে উন্মাদনা তৈরি হচ্ছে। রুমেশ জানান, তাঁর এই সাফল্যের পর শ্রীলঙ্কার তরুণ প্রজন্ম এখন শুধু ক্রিকেট নয়, হাত বাড়াচ্ছে জ্যাভলিন সহ অন্যান্য খেলায়।

নীরজ চোপড়ার প্রতি রুমেশের রয়েছে গভীর শ্রদ্ধা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত 'নীরজ চোপড়া ক্লাসিক'-এ অংশ নিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন রুমেশ।

রুমেশের এই সাফল্যকে শ্রীলঙ্কার জন্য এক "অবিশ্বাস্য ও গর্বের দিন" বলে অভিহিত করেছেন শ্রীলঙ্কা সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত