গাজার ক্যাফেতে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৭

প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ আলঘুল এএফপিকে বলেন, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গাজা সিটির পশ্চিমে জেলেদের বন্দরের ‘সুইট অ্যান্ড বিটার’ ক্যাফেতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৯ এএম

গাজা সিটির পশ্চিমে একটি বন্দরের ক্যাফেতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় শিশুসহ সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হন আরও বেশ কয়েকজন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) হামলাটি চালানো হয় বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগকে আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে ছয়জনের মরদেহ ও ১৩ জন আহতকে নেওয়া হয়েছিল। পরে আহতদের একজন মারা যান। খবর: আল-জাজিরা

হামলায় নিহত একজনের মরদেহ এতটাই ছিন্নভিন্ন হয়েছে যে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে শনাক্ত করতে পারেননি। আল-জাজিরা আরবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার তীব্রতায় কয়েকজন আহত ও নিহত ব্যক্তি সাগরে ছিটকে পড়েন। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ আলঘুল এএফপিকে বলেন, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গাজা সিটির পশ্চিমে জেলেদের বন্দরের ‘সুইট অ্যান্ড বিটার’ ক্যাফেতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা শাতি এলাকায় ‘হামাসের কয়েকজন কমান্ডারকে’ লক্ষ্য করে ‘নির্ভুল বিমান হামলা’ চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তিরা গাজায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।

তবে হামলায় নিহত শিশুর বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি এবং লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণও দেয়নি।

হামাস হামলাটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এটি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের প্রতি ইসরায়েলের ‘অবজ্ঞা’ প্রকাশ করে। সংগঠনটি মধ্যস্থতাকারীদের ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও ইতোমধ্যে সম্মত শান্তি পরিকল্পনা মেনে চলতে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এ হামলার একদিন আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে যাওয়ার অনুমোদন দেন। পরিকল্পনায় হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে সোমবার পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৩ হাজার ৩৯৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩১০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির পর নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৫ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত