জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। এগুলো বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আবার বড় সংকট দেখা দিবে। আমরা চাই না, দেশ আবার অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করুক বা চোরাবালিতে হারিয়ে যাক।’
গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) সিলেটে স্থানীয় একটি পত্রিকার বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। তবে সরকার কিছু প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ৫-৭ বছর আগে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় একজন দলীয় ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে পদায়ন করা হয়েছে। অতীতের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে আমরা এই বিষয়গুলোকে উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে দেখছি।’
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরণের পাঁয়তারা করা হলে সরকার জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এ ধরণের নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।’
তিনি আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সুষ্ঠুভাবে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির বলেন, ‘বিএনপি দলের প্রধানই সরকারেরও প্রধান। তাই দলকে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব যেমন তার, তেমনি দেশ পরিচালনার দায়িত্বও তার। প্রধানমন্ত্রী শুধু একটি দলের ভোটারদের প্রধানমন্ত্রী নন, যারা অন্য দলকে ভোট দিয়েছেন কিংবা ভোট দেননি তাদেরও প্রধানমন্ত্রী তিনি। তাই তাকে সকলের দায়িত্ব নিতে হবে।’
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সবাই গণভোটের পক্ষে কথা বলেছিলেন। কিন্তু
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে তারা (বিএনপি) অবস্থান পরিবর্তন করলেন কেন। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তারা ভাবলেন, এখন যা ইচ্ছে তাই করা যাবে। জনগণের মতামত বা ঐকমত্যের আর প্রয়োজন নেই।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘জনগণের রায়কে সম্মান না করলে কী পরিণতি হয়, তার ইতিহাস এদেশেও আছে, বিশ্বেও আছে। সেই পরিণতি কখনোই ভালো হয় না।’
এক প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসিনি। আমরা বিশ্বাস করি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে দেশে একটি আমূল পরিবর্তন আসবে, যে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় দেশবাসী অপেক্ষা করছে।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
