মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

দ্রুত নির্বাচিত প্রশাসনের হাতে দায়িত্ব দিতে হবে

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, গত ২৫ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আমরা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে একযোগে ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচি পরিচালনা করেছি।

নিজের উদ্যোগে পরিচালিত ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য অবহিতকরন নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় বারিধারা ঢাকা মহানগরী উত্তরের কার্যালয়ে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, খাল পরিষ্কার, জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং দখল হয়ে যাওয়া ফুটপাত উন্মুক্ত করার কাজ করেছি। সাত দিনে ঢাকার সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে—আমরা এমন দাবি করছি না। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, কাজটি যে সম্ভব, তা হাতে-কলমে দেখানো এবং নগরবাসীর কণ্ঠস্বরকে এক জায়গায় জড়ো করা।

তিনি আরও বলেন, একসময় যে খাল পানি নিয়ে যেতে প্রধান মাধ্যম ছিল, সেটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ফুটপাতে হাঁটার কথা, সেখানে দোকান বসেছে। ৭দিন কাজ করার পর একটি কথা না বলে পারছি না এই শহরের সমস্যা জনবলের অভাব নয়, দায়িত্ববোধের অভাব।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন আরও জানান, ৭দিনের ঘোষিত কর্মসূচিতে ৫৪টি ওয়ার্ডে ২৯০টি খাল ও ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রায় ২০৪ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রায় ২৫ হাজার ৮২৮ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ২০টি স্মার্ট বিন স্থাপন করেছি। এসব বিনে তিনটি ধাপে আবর্জনা ফেলা যাবে। আগামী স্বাক্ষরতা দিবসে এই বর্জ্য থেকে কলম তৈরি করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারকে আমরা বলব, বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার জন্য উন্নত রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সহযোগিতা নিতে পারেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বোঝা হিসেবে না দেখে এটিকে সম্পদে পরিণত করতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষকে দুর্বল বানানোর দরকার নেই, কার্ড নয়-কাজ চাই। আমাদের এই জাতি অন্যের কাছে হাত পাতবে কেন? তারা নিজেরা মাথা উঁচু করে কাজ করে নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে চায়।

কেন্দ্রীয় নির্বাহি পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড.মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত,কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন, প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ। 

ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, সড়কবাতিগুলো সচল রাখতে হবে। জনগণকে অভিযোগ দায়েরের পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে এবং অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে সেগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ দেওয়া, নিষ্পত্তির অবস্থা জানা এবং ঘরে বসে তার অগ্রগতি দেখার সুযোগ নাগরিকদের দিতে হবে।

তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, আপনারা একটি স্মার্ট বিরোধী দল পেয়েছেন। প্রয়োজন হলে আমাদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিন।

ওয়ার্ডভিত্তিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতি মাসে প্রতিটি ওয়ার্ডের বাজেট, ব্যয় ও কর্মসূচির তথ্য নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে এবং রিপোর্টিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে পারলে এই শহরকে এমন একটি শহরে রূপান্তর করা সম্ভব, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকেও পর্যটকরা ঘুরতে আসবেন।

আমরা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজনের দাবি জানাচ্ছি। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রশাসনের হাতে নগরের দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আমাদের এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সরকার ও নগর প্রশাসনকে বোঝাতে চেষ্টা করেছি-দায়িত্বশীলতার খাতিরে যে কেউ চাইলে এই কাজ করতে পারে। যেখানে প্রশাসন থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও জনবল রয়েছে, সেখানে কেন একটি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা সম্ভব হবে না?

ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ময়লা নিয়েও ঢাকা শহরে সিন্ডিকেট হয়। সেই সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত