২০০ বছরেও সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে মসজিদ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

প্রায় ২০০ বছর আগে নির্মিত আলহাজ মরহুম ফরমান আলী সরকার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে এখনো। তিন গম্বুজবিশিষ্ট নিখুঁত কারুকার্যের এই মসজিদটি আলহাজ মরহুম ফরমান আলীর একক চেষ্টায় নির্মিত হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এটি নির্মাণে তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের কলকাতা থেকে শ্রমিক এনে মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল। এর বাইরের এবং ভেতরের নিখুঁত কারুকার্যগুলো যে কোনো মানুষের দৃষ্টি কাড়ে।

ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নে ত্রিশাল-বালিপাড়া রোডের পাশে নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলী দেখতে অনেক দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। আলহাজ ফরমান আলী ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম। ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি অগাধ আস্থা ও বিশ্বাসের কারণে অত্যন্ত ভালোবাসায় অনেক টাকা খরচ করে এর নির্মাণকাজ শেষ করেন। তিনি শুধু এই মসজিদ নির্মাণ করেই থেমে যাননি। আজীবনের জন্য এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তুলে নেন নিজের কাঁধে। ওনার জীবদ্দশার পরও যেন এই মসজিদ পরিচালনায় কারও আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন না পড়ে সেজন্য প্রায় সাড়ে চার একর আবাদি জমি মসজিদের নামে লিখে দিয়ে যান।

মসজিদটি মোতাওয়াল্লির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মোতাওয়াল্লি শাহজাহান সরকার বলেন, ইসলামের বিকাশ এবং ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে আলহাজ মরহুম ফরমান আলী সরকারের অবদান অপরিসীম। ওনার একক প্রচেষ্টায় প্রায় ২০০ বছর আগে চুন, সুরকির গাঁথুনি দ্বারা এই অপূর্ব কারুকার্যের মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করা হয়। মসজিদের নামে ওনার দেওয়া জমির ফসল থেকেই একজন ইমাম, একজন খতিব ও একজন মোয়াজ্জিনসহ যাবতীয় খরচ বহন করা হয়।

মসজিদের ভেতরে তিনটি মেহরাব রয়েছে। এর মধ্যে মাঝখানেরটি ইমামের জন্য। দুইপাশের দুইটি সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য। এই মেহরাবগুলো দেয়ালের ভেতরের অংশেই নির্মাণ করা হয়েছে। সে জন্য বাইরের অংশে মেহরাবের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাবে না। মেহরাবের জন্য মসজিদের পশ্চিম পাশের দেয়াল প্রায় তিন ফুট প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ২০০ বছর আগে নির্মাণ করা হলেও এর মূল অংশের এখনো সংস্কারের প্রয়োজন পড়েনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত