নেত্রকোনায় কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা মীমাংসার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে সালিশের মাধ্যমে ভুল স্বীকার করে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও অভিযুক্ত রিপনকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেন সালিসকাররা।
এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ গিয়ে লুকিয়ে থাকা মেয়ের পরিবারকে খুঁজে বের করে থানায় মামলা করতে পাঠায়। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত দশটা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মো আবুল খায়ের।
এর আগে সকালে একটি ওই ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশের হাতে আসে। তবে গ্রামের কোথাও রিপনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও জানান ওসি।
তারও আগে সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে নেত্রকোনার সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া নন্দুরা গ্রামে এই সালিশ বৈঠকের ঘটনা ঘটে।
গত শনিবার গ্রামবাসী ওই রিপন ও কিশোরীকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতে নাতে আটক করে। পরে গ্রামজুড়ে দুইদিন ব্যাপী বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলে। অবশেষে সোমবার রাতে সালিশ বৈঠকে বসেন বিএনপি-জামায়াতসহ গ্রামের মানুষ।
স্থানীয়, পুলিশ ও ফেইসবুকে পাওয়া ভিডিওসহ সূত্রে জানা গেছে, নন্দুরা গ্রামের পেশায় কাঠ মিস্ত্রি রিপন মিয়া গত কয়েক বছর ধরে জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত হন। এর পর থেকে দেশ বিদেশেও বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে ঘুরে বেড়িয়ে কন্টেন্ট তৈরি করেন। আই এম এ রিপন ভিডিও বা আই লাভ উ, এটাই বাস্তব এমন তার বিভিন্ন কথা ভাইরাল হওয়ার পর তার দরিদ্র মা বাবাকে দেখে না এমন অভিযোগও ওঠে ওই রিপনের বিরুদ্ধে।
বিয়ে করেও স্ত্রী সন্তান রেখে নিজেকে অবিবাহিত দাবি করা এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটারকে নিয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটানোয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। এবার এক কিশোরীকে (১৪) কন্টেন্ট করার ফাঁদে ফেলে তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করে। কিন্ত অপ্রাপ্তবয়সী কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত স্থানীয়রা আপত্তিকর অবস্থায় হাতে নাতে ধরে ফেলে। পরে এ নিয়ে দুই দিন ধরে গ্রামবাসী মীমাংসা করার চেষ্টা চালায়।
এক পর্যায়ে বিষয়টি আর গ্রামে থাকে না। গ্রামের মানুষ ওই পরিবারকে সাথে নিয়ে মীমাংসার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে সোমবার রাতে সালিশে বসে।
দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে মীমাংসায় রিপন ভুল স্বীকার করে।
ওই পরিবারকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেন সালিসকাররা। সালিশে বিএনপি নেতাকর্মী ছাড়াও গ্রামের মানুষ ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভোর থেকে রিপন গা ঢাকা দিয়েছে। সেই সাথ মেয়ের পরিবারও গা ঢাকায় ছিলো।
সকালে ওই সালিশের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে মডেল থানার পুলিশ গিয়ে ওই গ্রামে উপস্থিত হয়ে কিশোরীর পরিবার ও অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে খুঁজে।
এক পর্যায়ে কিশোরীর পরিবারকে পেয়ে থানায় মামলা দায়ের করতে বললে তারা রাতে থানায় হাজির হন। তবে রিপনকে খোজঁছে পুলিশ।
অবে ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বিভিন্ন মাধ্যমে জানান, মেয়টি দরিদ্র হওয়ায় এবং গ্রামের মানুষ বিচার নিয়ে আসায় আমরা গ্রামবাসী মিলে আলোচনায় বসেছিলাম। সেখানে ওই পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দেবে বলেছিলো। কিন্তু পুলিশ এসে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা বলায় বিষয়টি আইনি ভাবেই যাচ্ছে।
এদিকে এনসিপির নেতা প্রীতম সোহাগ তার একটি ফেইসবুক পোস্টে এ নিয়ে বলেন, উপযুক্ত প্রমাণ আলামতসহ পুলিশ ডেকে থানায় দেন দলীয় অফিসে বসে ফৌজদারি অপরাধের বিচার করার দু:সাহস দেখানোটা আইন হাতে তুলে নেয়ার মতো একটা বাজে নজির। এ বিষয়ে জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনাটি সঠিক তদন্ত খোঁজ খবর নিচ্ছেন।
এই দিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রিপন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ব্যবহৃত মোবাইলফো বন্ধ পাওয়া যায়।
মডেল থানার ওসি মো আবুল খায়ের জানান, আমরা খবর পেয়েই ওই গ্রামে গিয়ে রিপনকে আটকের চেষ্টা করছি। পলাতক রয়েছে। ওই গ্রামে কিশোরীর পরিবারকেও পাচ্ছিলাম না। এক পর্যায়ে পেয়ে তাদেরকে মামলা করতে থানায় পাঠাই। মামলার প্রস্তুতি চলছে রাতেই মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়া রিপনকে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।
উল্লেখ্য, রাত ১০ টা ২০ পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের হয়নি। তবে প্রস্তুতি চলছে।
