ইরানি দুই নারী ফুটবলার এখন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
বছরের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া ইরানের জাতীয় নারী ফুটবল দলের দুই সদস্য অবশেষে দেশটির পূর্ণ নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। ফাতেমেহ পসানদিদেহ ও আতেফেহ রামাজানিজাদেহ নামে এই দুই ফুটবলার ব্রিসবেনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পান।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন মন্ত্রী টনি বার্ক স্বয়ং উপস্থিত থেকে তাঁদের নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করেন। জীবনের এই নতুন অধ্যায়কে তাঁদের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
 
নাগরিকত্ব গ্রহণের পর আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন দুই নারী ফুটবলার। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আতেফেহ রামাজানিজাদেহ বলেন, 
"গতকাল আমার জীবনের জন্য সত্যি অত্যন্ত বিশেষ ও অবিস্মরণীয় একটি দিন ছিল। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে আমি গর্বিত ও গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। অস্ট্রেলিয়া আমাকে নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ দিয়েছে। তবে আমার ইরানি মূল ও স্মৃতিগুলো সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে।"

একই অনুভূতি ব্যক্ত করে ফাতেমেহ পসানদিদেহ বলেন, "আমাদের যা কিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এবং যত চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবেলা করেছি, তার পর এই মুহূর্তটির গুরুত্ব শব্দে প্রকাশ করার মতো নয়। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে আমি ভীষণ গর্বিত।"

অস্ট্রেলিয়ার আইনানুযায়ী সাধারণত কোনো শরণার্থীকে নাগরিকত্বের আবেদন করতে চার বছর বৈধ ভিসায় অবস্থান করতে হয়। তবে এই দুই নারী ফুটবলারের ক্ষেত্রে এত দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় নারী ফুটবল দলের হয়ে খেলার সুযোগ করে দিতেই এই আইনি দ্রুততা অবলম্বন করা হতে পারে। 
 
দুই ফুটবলার ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় নারী লিগ 'এ-লিগ উইমেন'-এর দল ব্রিসবেন রোর-এ যোগ দিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত উইমেন'স এশিয়ান কাপে খেলতে এসে ইরান দল টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরানি এক টেলিভিশন উপস্থাপক তাঁদের ‘যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যা দেন, যা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি তৈরি করে।

প্রাথমিকভাবে ৭ জন ফুটবলার রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন, যার মধ্যে ৫ জন কয়েক দিনের মাথায় দলে ফিরে যান। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের আশ্রয়ের পক্ষে মত দেন এবং অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন। অবশেষে ফাতেমেহ ও আতেফেহর নাগরিকত্ব লাভের মাধ্যমে এই বিতর্কের নতুন এক ইতিবাচক সমাধান হলো।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত