স্বপ্নযাত্রায় ভুল পথ, যুবকের নির্মম পরিণতি

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

উন্নত জীবনের আশায় ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ২৫ বছর বয়সী তরুণ ইকবাল মাদবর। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, দালালের প্রতারণার শিকার হয়ে লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি ও নির্মম নির্যাতনের পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) মধ্যরাতে শিবচর উপজেলার বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের সরকারেরচর গ্রামে ইকবালের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত ইকবাল মাদবর ওই গ্রামের মোতালেব মাদবরের ছেলে।

সরকারেরচর গ্রামের ইকবাল মাদবর পাশের বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ছলেনামা গ্রামের সাগর নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। নিরাপদে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২২ লাখ টাকার চুক্তি করা হলেও তাঁকে ইতালির পরিবর্তে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি মাফিয়া চক্রের কাছে তাঁকে জিম্মি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, জিম্মি অবস্থায় ইকবালকে মুক্ত করা এবং ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে কয়েক দফায় তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং আরও অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে ইকবালের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

স্বজনদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের ফলে ইকবাল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বুধবার মধ্যরাতে তাঁর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছায়। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

নিহতের পরিবার এ ঘটনায় জড়িত দালাল ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, “অবৈধভাবে বিদেশ গমন ব্যক্তি, পরিবার ও দেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সর্বদা সচেষ্ট আছে। 

অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বোপরি সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই মিলে নিরাপদ, বৈধ ও মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করা প্রয়োজন।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত