ব্রহ্মপুত্রের উত্তাল স্রোত যেন গিলে ফেলেছে কৃষক সাইফুল ইসলামকে। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। টানা দুই দিনের উদ্ধার অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে নদীর বুক ছাড়তে রাজি নন স্বজনরা। একটিমাত্র প্রত্যাশা—প্রিয় মানুষটির মরদেহ হলেও যেন ফিরে পান।
নিখোঁজ সাইফুল ইসলাম (৫৫) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর টানমলামারি গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে উচাখিলা ইউনিয়নের বটতলা বালুরঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোতে ভেসে যাওয়া একটি নৌকার পাটাতন উদ্ধারের জন্য পানিতে নামেন সাইফুল ইসলাম। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে তলিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
ঘটনার পর স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে নদীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের লিডার জলিলের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি ডুবুরি দল বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে সেদিনের অভিযান স্থগিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ডুবুরি দল আবারও ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়। দীর্ঘ সাত ঘণ্টারও বেশি সময় পানিতে খোঁজ করেও সাইফুল ইসলামের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ফায়ার সার্ভিস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে।
ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা রাম প্রসাদ পাল বলেন, ‘দুই দিন ধরে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে মরদেহ অনেক দূরে ভেসে যেতে পারে। আপাতত উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়েছে। মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়দের দ্রুত খবর দিতে এবং স্বজনদের উদ্ধারে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।’
সরকারি উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও শেষ হয়নি পরিবারের অপেক্ষা। বৃহস্পতিবার বিকেলেও স্বজনদের কয়েকটি নৌকা ব্রহ্মপুত্রের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে। পরিবারের সদস্যরা বলেন, মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমরা নদী ছাড়ব না। যতদিন লাগে, নিজেরাই খুঁজে যাব।
