রশিদের ঘূর্ণিজাদুতে ইতিহাস, আইরিশদের উড়িয়ে দিল আফগানরা

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

রেকর্ড বইয়ে নাম লেখানো যেন রুটিন বানিয়ে ফেলেছেন রশিদ খান। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শুক্রবার ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে স্পিন ঘূর্ণিতে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড দলের ব্যাটারদের নাজেহাল করে ছেড়েছেন এই আফগান সুপারস্টার। মাত্র ৩৪ রান খরচ করে শিকার করেছেন ৬টি উইকেট।

ওয়ানডেতে যেখানে ৫ উইকেট নেওয়াই অনন্য এক কীর্তি সেখানে এই ফরম্যাটের ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় ৬ উইকেট শিকার। এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের সুবাদেই ওয়ানডে ইতিহাসে এককভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চবার ইনিংসে ৬ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। পেছনে ফেলে দিয়েছেন মিচেল স্টার্ক ও শহীদ আফ্রিদির মতো কিংবদন্তিদের। তার সামনে এখন কেবল পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা পেসার ওয়াকার ইউনুস (৫ বার)।

শুধু ৬ উইকেটই নয়, ওয়ানডে সংস্করণে সব মিলিয়ে ১১৩ ইনিংসে এটি রশিদের সপ্তম বারের মতো ৫ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি। বর্তমান সক্রিয় স্পিনারদের মধ্যে ওয়ানডেতে তার চেয়ে বেশিবার ৫ উইকেট আর কেউ নিতে পারেননি। এই অনন্য অর্জনের মাধ্যমে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশিবার ফাইফার নেওয়ার তালিকার পাঁচে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রার সঙ্গে যৌথভাবে নাম লেখালেন তিনি। তবে, ম্যাকগ্রা তার ক্যারিয়ারে ৭ বার ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ২৪৮ ইনিংসে, যেখানে রশিদ এই মাইলফলকে পৌঁছলেন মাত্র ১১৩ ইনিংসে!

এদিকে ম্যাচে নিজের স্পেলে মাত্র ৭.৪ ওভার বোলিং করে ৪৬ বলের ঠিক অর্ধেক বল অর্থাৎ ২৩টিই ডট দিয়েছেন এই তারকা লেগ স্পিনার।

ব্রেডি ক্রিকেট ক্লাব মাঠে বৃষ্টির বাধায় ম্যাচ নেমে আসে ৪৭ ওভারে। সেখানে আফগানিস্তানের ২৯৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে একটা সময় দারুণ লড়াই করছিল আয়ারল্যান্ড। কেড কারমাইকেলের হাফ সেঞ্চুরি এবং লরকান টাকারদের ব্যাটে ভর করে জয়ের পথেই ছিল তারা। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে বেশি সময় নেননি রশিদ। দলীয় মিডল অর্ডারে প্রথম আঘাত হানার পর শেষ দিকে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তিনি।

কারমাইকেলের (৬২) চমৎকার ইনিংসের পর কার্টিস ক্যাম্ফার ও বেন কালিজের প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও রশিদের ঘূর্ণিতে টিকতে পারেনি কেউ। মাত্র ৬৩ রান যোগ করতেই শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রানে গুটিয়ে যায় আইরিশরা। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়া পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৯২ রানের বড় জয়ে ৫ ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে থাকল আফগানিস্তান। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে যথারীতি রশিদের হাতেই।

ম্যাচ শেষে নিজের বোলিং সাফল্য ও কন্ডিশন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রশিদ শোনালেন তার সফলতার পেছনের মন্ত্র। ম্যাচসেরা পুরস্কার গ্রহণের সময় অফিশিয়াল সম্প্রচারে তিনি বলেন, ‘এখানে যে তীক্ষ্ণ টার্ন বা স্পিন পাওয়া যায়, সেটা আমার সত্যিই ভীষণ ভালো লাগে, বিশেষ করে এই কন্ডিশনে। তবে এর চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ধারাবাহিকভাবে সঠিক জায়গায় বল ফেলা, আমি মূলত সেটির ওপরই জোর দিয়েছিলাম। সঠিক জায়গায় বল ফেলতে পারলে এখান থেকে দারুণ সাহায্য পাওয়া যায়।’ 

লেগ স্পিনের কার্যকারিতা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে রশিদ আরও যোগ করেন, ‘পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ মিটার লেংথ হলো লেগ স্পিনারদের জন্য আদর্শ জায়গা। আমি মনে করি, স্টাম্প বরাবর বল করাটাই ব্যাটারকে চাপে ফেলে এবং এর মাধ্যমে আপনি খেলায় প্রভাব রাখতে পারবেন। আধুনিক যুগে স্পিনারদের জন্য সবচেয়ে বড় কথা হলো সবকিছু সহজ রাখা। সঠিক লেংথ বজায় রেখে বৈচিত্র্য আনাটাই আসল কথা। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লেন্থ ঠিক রাখা এবং বল যেন স্টাম্পে গিয়ে শেষ হয়।’ 

ব্যক্তিগত মাইলফলক ছোঁয়া এবং রশিদের এমন অলরাউন্ড নেতৃত্ব গুণে জয় পাওয়া আফগান ক্রিকেট দলের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেওয়ার এক দারুণ উপলক্ষ। আগামী সোমবার বেলফাস্টে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে নামবে দুই দল।  

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত