হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ, জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ অনুমতি ছাড়াই পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী খেয়া নৌকা চলাচল ও টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এ কার্যক্রমকে অবৈধ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন বলছে, কারা যাত্রী পারাপারের নামে টোল আদায় করছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাবনার নাজিরগঞ্জ এবং রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ঘাটের মধ্যে প্রতিদিন শত শত যাত্রী নৌকায় পারাপার হচ্ছেন। যদিও একই নদীপথে সরকারি ফেরি ও স্পিডবোট চলাচল করছে, তারপরও খেয়া নৌকায় যাত্রী পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মিত টোলও আদায় করা হচ্ছে। সেখানে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত টোল আদায় চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় কোনো বৈধ অনুমোদন বা কার্যকর ইজারা ছাড়াই খেয়াঘাট পরিচালনা করছে। বর্ষার ভরা মৌসুমে উত্তাল পদ্মা নদীতে এভাবে যাত্রী পারাপার বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল অবৈধ খেয়াঘাট বন্ধে পাবনা জেলা প্রশাসককে চিঠিও দিয়েছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। জবাবে গত ১৪ মে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন- যে তারা অবৈধ খেয়াঘাট সম্পর্কে অবগত নয়। এছাড়াও গত ১৬ জুলাই নাজিরগঞ্জ খেয়াঘাট সংক্রান্ত একটি রিট মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। সবকিছু উপেক্ষা করেই নাজিরগঞ্জ নদীবন্দরের সীমানার মধ্যে যাত্রী পারাপারের নামে অবৈধভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে।
ঘাটে টোল আদায়কারীদের দাবি- তারা স্থানীয় বিএনপি নেতা ডা. আবদুল সালামের নির্দেশনায় ঘাট চালাচ্ছেন। তবে ডা. আবদুল সালামের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণ যাত্রীদের পারাপারের সুবিধার্থে যারা নৌকার মালিক তারা এই খেয়াঘাট চালাচ্ছে। এটা আমি লাগাইনি, আমার কি কোনো এখতিয়ার আছে যে আমি সেখানে ঘাট লাগাবো?’
এবিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র নাজিরগঞ্জ নৌবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা গাজী মো. আব্দুল মোতালিব বলেন, কে বা কারা নৌকার মাধ্যমে অবৈধভাবে যাত্রী পারাপার করছে। তারা অবৈধ টোলও আদায় করছে। এর প্রেক্ষিতে অবৈধ টোল ও যাত্রী পারাপার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আমরা পত্র দিয়েছি। সেই পত্রের উত্তরে জেলা প্রশাসক জানিয়েছে তারা এই টোল বা যাত্রী পারাপারে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সরকার দায়বদ্ধ। আমরা খুবই শিগগিরই সেখানে স্থানীয় যে প্রশাসন রয়েছে তাদের সহায়তায় বাস্তবিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
