আশুগঞ্জে অবরোধ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট

অবরোধের কারণে মহাসড়কের আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা থেকে চান্দুরা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মেঘনায় ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

‎শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত  বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এতে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে বন্ধ রয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল। অবরোধের কারণে মহাসড়কের আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা থেকে চান্দুরা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীসহ স্থানীয় মানুষ।

‎স্থানীয়রা জানান, এর আগে গত বৃহস্পতিবার আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর ও তাজপুর গ্রামের উত্তর৷ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার এবং আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী উপস্থিত হয়ে এই বালুমহাল দমনে তাদের আশ্বাস প্রদান করা হলেও গতকাল রাতে মানববন্ধনে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের উপর হামলা ও হুমকি দেন বলে দাবী করেন বিক্ষুদ্ধরা। ঘটনাস্থলে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে দাবী জানান।

এদিকে দীর্ঘ এই যানজটে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঐ সড়ক ব্যবহারকারী যাত্রীসহ স্থানীয়রা। ৩ ঘন্টা ধরে আটকে থাকা মো. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, কসবা উপজেলা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী কাজী পরিবহন বাস দিয়ে পরিবার নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্য যাত্রা করি। বিশ্বরোড পার হয়ে সোহাগপুর ব্রিজের পূর্বে মানববন্ধন আরম্ভ হলে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আটকে আছি। হাজার হাজার মানুষ কষ্ট করছে। কখন মানববন্ধন শেষ হবে কেউই বলতে পারছে না।

সিলেট থেকে ছেড়ে আসা এনা পরিবহনের যাত্রী কাউছার বলেন, আমার ঢাকাতে ৩টার সময় মিটিং কিন্তু এখানেই ১টা বেজে গেছে! কবে জ্যাম শেষ হবে জানিও না। তিনি বলেন পরিবার পরিজন নিয়ে রোগী,  শিশু, মানুষ কষ্ট করছে।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, যারা মানববন্ধন করছে তাদের মূল লোকেরা সামনে আসছেনা। সামনের সারির লোকজনের সাথে কথা বলে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা করছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) ওবায়দুর রহমান বলেন, আমরা যানচলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত