জাতীয় নির্বাচন: গাজা ইস্যুতে সুর পাল্টালেন নেতানিয়াহু

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

আসন্ন নির্বাচন ও নিজের উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক ভিত্তির চাপের মুখে গাজা যুদ্ধ ও মার্কিন সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে সুর পাল্টেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি ও প্রকৃত অর্থে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে কোনো সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজের ডানপন্থী ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে তিনি এই ঘোষণা দেন।

‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনাটি চরম ডানপন্থী ইসরায়েল সরকারের জন্য অত্যন্ত বিতর্কিত হওয়ায় মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সামাল দিতেই তিনি সরাসরি ইসরায়েল জনগণের উদ্দেশ্যে কথা বলছেন।

এর আগে ইসরাইলি মন্ত্রিসভা বিস্তারিত তথ্য সম্পূর্ণ না জেনেই গাজায় কিছু আন্তর্জাতিক বাহিনীর প্রবেশের বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছিল। তবে এবার নেতানিয়াহু স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, ইসরাইল এই ১৫ দফার নথিটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, হামাস সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েল সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না।

হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, হামাসকে তাদের সমস্ত ভারী ও হালকা অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করতে হবে এবং এর পাশাপাশি গাজায় অবশিষ্ট যেকোনো সুড়ঙ্গের বিষয়েও পরিকল্পনা প্রদান করতে হবে।

নেতানিয়াহুর এমন অনড় অবস্থান ‘বোর্ড অব পিস’ এবং মধ্যস্থতাকারীদের জন্য চরম সমস্যার সৃষ্টি করেছে। মধ্যস্থতাকারীরা বিগত কয়েক মাস ধরে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরাইলের পর্যায়ক্রমিক সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে আসছিলেন। 

তবে এখন মনে হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই নেতানিয়াহু সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার ‘রিসেট বাটন’ চেপে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তার শাসনামলে এমন কোনো সমঝোতা বাস্তবায়িত হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত