চীনের পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে প্রলয়ঙ্করি টাইফুন ‘ডলফিন’। প্রচণ্ড বাতাসের তোড় আর অতিভারী বর্ষণে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সমুদ্রের নজিরবিহীন উত্তাল রূপ এবং নদীগুলোর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় উপকূলজুড়ে এখন দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ান শহরের ওপর দিয়ে স্থলভাগে এই ঝড় আছড়ে পড়ে। ওই সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি। উত্তাল ঢেউ ও টানা মুষলধারে বৃষ্টির মুখে চীন সরকার দেশজুড়ে সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। খবর: রয়টার্স
চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝো শহর এবং পাশের ফুজিয়ান প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানার সময় টাইফুন ডলফিনের বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৯৩ মাইল ছিল। এতে উপকূলজুড়ে সৃষ্টি হয় বিশাল ঢেউ। প্রবল বৃষ্টিতে ঝেজিয়াংয়ে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
সাংহাইয়ের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দ্য পেপারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবারের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল করেছে শহরের হংকিয়াও ও পুডং বিমানবন্দর।
চীনের আবহাওয়াবিদরা জানান, আগামী কয়েকদিনে বিভিন্ন এলাকায় ৮ থেকে ১৬ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঝেজিয়াং প্রদেশের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে অত্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা দিয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝড়ের ঝুঁকির মুখে কেবল ওয়েনঝৌ শহর থেকেই প্রায় ৯ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য এক হাজারেরও বেশি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
এই ঝড়ে সাংহাইয়ের দুটি প্রধান বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার প্রায় ১,৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং ঝেজিয়াংয়ের হাংঝৌ বিমানবন্দরে বাতিল হয় প্রায় ২৭০টি ফ্লাইট। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু এলাকায় ট্রেন চলাচলও স্থগিত রাখা হয়েছে।
ঝড়ের ঝুঁকির কারণে ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান অঞ্চলে ২০০টিরও বেশি ফেরি চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র রবিবার সকালে টাইফুন ‘ডলফিন’-এর জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছে। চীনে ঝড়ের ক্ষেত্রে এটিই সতর্কতার সর্বোচ্চ পর্যায়। আবহাওয়া বিভাগ ঝেজিয়াংয়ের কয়েকটি এলাকায় অতিভারি বৃষ্টিপাতের বিষয়ে সতর্ক করেছে। এছাড়া সোমবার বিকালের মধ্যে সাংহাই এবং ফুজিয়ান, আনহুই ও জিয়াংসু প্রদেশের কিছু অংশেও ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
ফাস্ট ফুডের দোকান পুড়ে ছাই