গোবিন্দগঞ্জে অপরাধ দমনে আলোচনায় এসআই শিবলি কায়েছ

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১১ পিএম

অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আলোচনায় এসেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই শিবলি কায়েছ মীর। স্থানীয়দের ভাষ্য, অপরাধের ক্ষেত্রে তিনি কঠোর হলেও থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

জানা গেছে, গত জানুয়ারিতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় যোগ দেওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন শিবলি কায়েছ মীর। তার দায়িত্বের মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, বিভিন্ন অপরাধের তথ্য যাচাই এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মতো বিষয় রয়েছে।

স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক নেতা সাইফুল ইসলাম জানান, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা। এ কারণে এখানে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত তৎপরতা প্রয়োজন হয়। তার ভাষ্যমতে, অপরাধসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে শিবলি কায়েছ সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।  

উপজেলার হরিরামপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক বাচ্চা মিয়া বলেন, থানায় বিভিন্ন প্রয়োজনে গেলে তার আচরণে পেশাদারত্ব ও ধৈর্যের পরিচয় পাওয়া যায়। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ ও অসহায় ব্যক্তিরা যাতে তাদের অভিযোগ তুলে ধরতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করেন। তবে মানবিক আচরণের পাশাপাশি অপরাধের বিরুদ্ধে তার অবস্থান কঠোর।

উপজেলায় মাদক উদ্ধার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলাজনিত কার্যক্রমে তার অংশগ্রহণ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি আইনগত প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।

মাদক উদ্ধার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার ও আইনগত সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য শিবলি কায়েছ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার ‘শ্রেষ্ঠ এসআই’ হিসেবে সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন।

পুলিশের দায়িত্ব পালনে এ ধরণের স্বীকৃতি একজন কর্মকর্তাকে আরও উৎসাহিত করে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ কোনো একক কর্মকর্তার নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানার সব সদস্যের সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকে।

গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাবের ক্রিয়া সম্পাদক ফারুক হোসেন ছন্দ জানান, উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গেও শিবলি কায়েছের পেশাগত যোগাযোগ রয়েছে। সাংবাদিকদের কাছ থেকে অপরাধ বা সাধারণ মানুষের অভিযোগসংক্রান্ত কোনো তথ্য পেলে তিনি তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানান এই গণমাধ্যমকর্মী।

পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। গোবিন্দগঞ্জেও এ ধরণের পেশাদার যোগাযোগের পরিবেশ রয়েছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকেরা জানান।

একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু অপরাধী গ্রেপ্তার করা নয়, একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, আইনি অধিকার এবং পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা নিশ্চিত করাও তার দায়িত্বের অংশ। সেই জায়গায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক আচরণ গুরুত্বপূর্ণ।

শিবলি কায়েছ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের কাছে যে বিষয়টি বিশেষভাবে প্রশংসিত, তা হলো—অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোরতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণে মানবিকতার সমন্বয়।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে থানার পুলিশ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। সেই দলগত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই শিবলি কায়েছ নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশের চাকরিতে বদলি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। ফলে একজন কর্মকর্তা এক জায়গায় দীর্ঘদিন থাকবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। এসআই শিবলি কায়েছ মীর মনে করেন, দায়িত্ব পালনের সময় তার আচরণ, পেশাদারিত্ব ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের যে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত কর্মজীবনের অন্যতম পরিচয় হয়ে থাকে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অপরাধ দমনে আইনানুগ কঠোরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতি পুলিশের মানবিক আচরণ আরও জোরদার হোক। তাদের মতে, অপরাধীর বিরুদ্ধে দৃঢ় এবং সাধারণ মানুষের কাছে সহযোগিতাপূর্ণ—এমন পুলিশ কর্মকর্তাই মাঠপর্যায়ে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, নিঃসন্দেহে এসআই শিবলি কায়েছ একজন ভাল পুলিশ অফিসার। ভাল কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ গত জুলাইয়ে জেলায় শ্রেষ্ঠ এসআই’ হিসেবে তার হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত