দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তা ১১১ ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭:৩৪ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের প্রাথমিক প্রতিবেদনে ২০ জন নিহতের খবর প্রকাশ করা হলেও উদ্ধার অভিযান চলার সাথে সাথে নিহতের সংখ্যা দ্রুত লাফিয়ে বাড়ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছিল, সোমবার পশ্চিম কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে কলম্বিয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী ইকুয়েডরেও ব্যাপক কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কে বিভিন্ন এলাকার মানুষ বাড়িঘর ও ভবন থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার পৌর এলাকার কাছে। এলাকাটি কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ২৫০ মাইল বা ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ৬৬ মাইল বা ১০৭ কিলোমিটার।
চোকো অঞ্চলের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ভূমিকম্পের পর প্রাদেশিক রাজধানী কিবদোতে মানুষ আহত হয়েছেন ও ভবনগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি সম্ভাব্য আফটারশক বা পরবর্তী কম্পন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
গভর্নর বলেন, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র সান হোসে দেল পালমারের কাছে হলেও কিবদোতে ভবনের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন শুরু করেছে এবং প্রাথমিক একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভূমিকম্পের কম্পন শুধু চোকো অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রাজধানী বোগোতাতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। এমনকি কলম্বিয়ার বাইরে ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলা পর্যন্ত ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এই দুর্যোগের পর উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষয়ক্ষতি যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, যেসব ভবন ধসে পড়েছে, সেগুলোর ভেতরে কেউ আটকা আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আহতদের উদ্ধারের বিষয়টিও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
চোকো গভর্নর নুবিয়া কর্দোবা আগেই জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য আফটারশক নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের পাশাপাশি অন্যান্য স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়েও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
এই ভূমিকম্পের আগে জুনের শেষ দিকে লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই দুটি ভূমিকম্পে শত শত ভবন ধ্বংস ও ৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
