বেসরকারি স্কুল-কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রধান ফটকে এসে মানববন্ধনে অংশ নেয়।
এসময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে শাখা ছাত্রশিবির, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র ইউনিয়ন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রশক্তি, জমিয়তে তালেবায়ে আরাবিয়া সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা 'কমিটি না মেধা, মেধা মেধা', 'মামা না চাকরি, চাকরি চাকরি', 'চাচা না চাকরি, চাকরি চাকরি', 'কোটা গেছে যেই পথে, কমিটি যাবে সেই পথে', 'কমিটি না মেধা, মেধা মেধা', 'নিবন্ধন নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না', সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, 'বাংলাদেশের জনগণ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে ভুগছে। এর মধ্যে আপনারা বিষফোড়া হিসেবে এনটিআরসিএ-এর নিয়োগ ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। আপনারা এনটিআরসিএ-র ক্ষমতা যদি কমিটির হাতে দিতে চান, তাহলে এই বিষফোড়া কিন্তু আপনাদের কাঁধে উঠতে বাধ্য হবে।'
শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ২০১৮ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে এই কোটা প্রথাকে বিলুপ্ত করেছিলাম। ২০২৪ এ এই কোটা প্রথা পুনপ্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে একটা দল দেশ ছেড়ে দিল্লিতে পালিয়েছে। আমরা কোনো ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়া চাই না। আমরা চাই এনটিআরসি’র মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক। প্রয়োজনে কোনো স্থায়ী আইন করে স্থায়ীভাবে এনটিআরসি’র হাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া হস্তান্তর করা হোক।"
বৈবিছাআ'র আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, "গতকাল থেকে বিভিন্ন কাম্পাসে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়, যে পদ্ধতিটি আনতে চাচ্ছেন সেটি কেউ চায় না। আগামী ২৪ ঘণ্টার ভেতরে আপনারা যদি সিদ্ধান্ত না প্রত্যাহার করেন তাহলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে আপনাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে পড়বো।"