আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি, জুলাইয়ে ৮.৩২ শতাংশ

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে। জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের নভেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ ছিল।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে তা কমেছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। গত বছরের জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানেও মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে।

জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম। এ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। এক মাসে এ হার কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। গত বছরের জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশে নেমেছিল।

খাদ্যের পাশাপাশি খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার মূল্যস্ফীতিও কমেছে। জুলাইয়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৮ শতাংশে। জুনে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং গত বছরের জুলাইয়ে ছিল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চের পর জুলাইয়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিই সর্বনিম্ন হয়েছে। তবে এ খাতে মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে।

বিবিএসের হিসাবে, জুলাইয়ে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। জুনে এ হার ছিল ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। এ সময়ে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা জুনে ছিল ৯ দশমিক ০১ শতাংশ। শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ২১ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

এদিকে মূল্যস্ফীতি কমলেও মানুষের আয় বা মজুরি বৃদ্ধির হার প্রায় একই জায়গায় রয়েছে। জুলাইয়ে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি হার সূচকের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। জুনে এ হার ছিল ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং গত বছরের জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। অর্থাৎ, জুলাইয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট কম ছিল।

জুলাইয়ে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ, শিল্প খাতে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। তিন খাতের মধ্যে সেবা খাতেই মজুরি বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি।

বিবিএস জানিয়েছে, দেশের ৬৪ জেলার ১৫৪টি হাটবাজার থেকে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্য সংগ্রহ করে জুলাই মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক ও মূল্যস্ফীতির হিসাব করা হয়েছে। গত এক বছরের চলন্ত গড় মূল্যস্ফীতি আগস্ট ২০২৫ থেকে জুলাই ২০২৬ সময়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এর আগের একই সময়ে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে আট মাসের সর্বনিম্নে নেমে আসা স্বস্তির খবর হলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের ওপরে। একই সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধির হারও মূল্যস্ফীতির চেয়ে সামান্য কম। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ পুরোপুরি কমেছে, এমনটি এখনই বলা যাচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত