জিকো চমকে দলবদল শেষ করল মোহামেডান, লক্ষ্য ট্রেবল জয়

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

দলবদল ঘিরে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের আঙিনায় যেন ফিরেছে পুরোনো দিনের আবহ। গত কয়েক বছরে যে উন্মাদনা খুব একটা দেখা যায়নি, এবার দলবদলের শেষ দিনে সেটিই দেখা গেল সাদা-কালো শিবিরে। ঘোড়ার গাড়িতে করে খেলোয়াড়দের বাফুফে ভবনে নিয়ে গিয়ে দলবদল সম্পন্ন করেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। শেষ চমক হিসেবে জাতীয় দলের অভিজ্ঞ গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকোকে দলে ভিড়িয়ে শিরোপার দাবিও জোরালো করেছে তারা।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় পাঁচটি ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে মোহামেডানের ফুটবলাররা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) উপস্থিত হন। এর আগে ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান। ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান ও মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান, হকি কমিটির চেয়ারম্যান সাজেদ এএ আদেল, ক্লাব সভাপতি মো. বরকতউল্লাহ বুলু, পরিচালক মো. লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, পরিচালক মোস্তাকুর রহমান, ফুটবল দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবুসহ নতুন চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে সাদা-কালো টেন্ট হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

ঘোড়ার গাড়িতে করে এসে দলবদল সারলো মোহামেডান

২০২৬-২৭ মৌসুমের দলবদলে বসুন্ধরা কিংস থেকে নয়জন ফুটবলারকে দলে নিয়েছে মোহামেডান। তারা হলেন গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো, ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন, টনি আগাবাজি ও রিমন হোসেন, মিডফিল্ডার সোহেল রানা, মুজিবুর রহমান জনি ও শাহরিয়ার ইমন এবং ফরোয়ার্ড ইমানুয়েল সানডে ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। শেষ দিনে জিকোর সংযোজনই অবশ্য সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মোহামেডানে যোগ দিয়ে জিকো জানান, এই ক্লাবে খেলার ইচ্ছা তার অনেক আগে থেকেই ছিল। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে থাকতেই মোহামেডানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল তার। তবে বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে চুক্তির কারণে তখন সাদা-কালো জার্সি পরা হয়নি। এবার সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। জিকো বলেন, ‘মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে যোগ দিয়ে আমার ভালো লাগছে। নতুন ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে শিরোপা জেতা সম্ভব।’ মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে ক্লাবটির ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রত্যয়ও জানান তিনি।

শুধু জিকো নন, প্রায় প্রতিটি বিভাগেই এবার শক্তি বাড়িয়েছে মোহামেডান। গোলরক্ষক হিসেবে জিকোর সঙ্গে রয়েছেন সুজন হোসেন, আহসান হাবিব বিপু ও ইসমাইল হোসেন মাহিন। রক্ষণভাগে রহমত মিয়া, সাদ উদ্দিন, শাকিল আহাদ তপু, জাহিদ হাসান শান্ত, টনি আগাবাজি, রিমন হোসেন ও হাফিজুর রহমান বাবুসহ একাধিক খেলোয়াড় রয়েছেন।

মাঝমাঠে সোহেল রানা, মিনহাজ আবেদীন বাল্লু, মেহেদী হাসান রয়েল, জুয়েল মিয়া, মজিবুর রহমান জনি, শফিউল হোসেন ও আমির হাকিম বাপ্পির মতো খেলোয়াড় রয়েছেন। আক্রমণভাগে সুলেমান দিয়াবাতে, সৌরভ দেওয়ান, ইমানুয়েল সানডে, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও জয় আহমেদকে ঘিরে বড় প্রত্যাশা সমর্থকদের।

ঢাকার মাঠে ২৩ বছর পর গত মে মাসে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের শিরোপা জিতেছিল মোহামেডান। গত মৌসুমে লিগে পঞ্চম স্থানে থেকে শেষ করলেও এবার লক্ষ্য আরও বড়। ঘরোয়া ফুটবলে ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন নিয়েই দল সাজিয়েছে সাদা-কালোরা।

দলবদলের আগে শোভাযাত্রা করে মোহামেডান

মাঠের দল শক্তিশালী করার পাশাপাশি ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে মোহামেডানের। ক্লাব সভাপতি বরকতউল্লাহ বুলু জানিয়েছেন, নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে অন্যের অনুদানের ওপর নির্ভরতা কমাতে চান তারা। সাভারে মোহামেডানের প্রায় ৭৫ বিঘা জমিতে ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর আদলে একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী ঢাকা স্টেডিয়ামকে ফুটবলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে বাফুফে ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ক্লাব সভাপতি। তার প্রত্যাশা, এই মাঠে আবারও মোহামেডান-আবাহনীর মতো বড় ম্যাচের উত্তেজনা ফিরবে।

বরকতউল্লাহ বুলুর ভাষায়, ‘মোহামেডানকে শুধু দেশের ফুটবলে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও শক্তিশালী ক্লাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই আমরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উন্মাদনা তৈরিতে মোহামেডান ভূমিকা রাখবে।’
দলবদলে এবার মোহামেডানের প্রস্তুতিতে তাই যেমন রয়েছে তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড, তেমনি রয়েছে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। শেষ দিনে জিকোকে দিয়ে চমক দেখিয়ে সাদা-কালোরা নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। এখন সেই সামর্থ্য মাঠে কতটা কাজে লাগাতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে বহু প্রতীক্ষিত মোহামেডান-জাগরণের পরের অধ্যায়।

দলবদলের পর মোহামেডান

গোলরক্ষক- আনিসুর রহমান জিকো, সুজন হোসেন, আহসান হাবিব বিপু ও ইসমাইল হোসেন মাহিন।

রক্ষণভাগে- রহমত মিয়া, সাদ উদ্দিন, শাকিল আহাদ তপু, জাহিদ হাসান শান্ত, ইসমাইল হোসেন, আজিজুল হক অনন্ত, টনি আগাবাজি, রিমন হোসেন, শাহিন আহমেদ ও হাফিজুর রহমান বাবু।

মাঝমাঠে- সোহেল রানা, মিনহাজ আবেদীন বাল্লু, মেহেদী হাসান রয়েল, রহিম উদ্দিন, জুয়েল মিয়া, রাজু আহমেদ, মজিবুর রহমান জনি, শফিউল হোসেন, আমির হাকিম বাপ্পি, কামাল মৃধা, মেহেদী হাসান, আরিফ হোসেন, মোজাফফর মোজাফফরভ ও শাহরিয়ার ইমন।

আক্রমণভাগে- সুলেমান দিয়াবাতে, সৌরভ দেওয়ান, ইমানুয়েল সানডে, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও জয় আহমেদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত