এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোর তাগিদ

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৫ পিএম

বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর এনডিসি ৩.০-এর অগ্রাধিকারসমূহ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধি, অর্থায়নের নতুন সুযোগ কাজে লাগানো এবং জলবায়ু অগ্রাধিকারগুলোকে বাস্তবসম্মত ও বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশি-বিদেশি জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।

একই সঙ্গে জলবায়ু অর্থায়নের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের মধ্যে সমন্বয়, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার এবং অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তাঁরা।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) অধীনে অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট (বিসিসিটি), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং টেকসই উন্নয়ন, সবুজ দক্ষতা ও জলবায়ু কার্যক্রমবিষয়ক ইউনেস্কো চেয়ার যৌথভাবে ‘দ্য রোড টু আনতালিয়া: ক্লাইমেট ফাইন্যান্স অ্যান্ড এনডিসি ৩.০’ শীর্ষক প্রি-কপ৩১ অনলাইন ওয়েবিনারের আয়োজন করে। ৯০ মিনিটের এ ওয়েবিনারটি বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৬–২০৩০ (খসড়া)-এর বিশেষত ‘পিলার ইউ—আনলকিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ এবং ‘পিলার আর—রিনিউএবলস অ্যান্ড লো-কার্বন’-এর অগ্রাধিকার এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগেরও অংশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ। 

উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন টেকসই উন্নয়ন, সবুজ দক্ষতা ও জলবায়ু কার্যক্রমবিষয়ক ইউনেস্কো চেয়ার এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট অ্যান্টনিজ কলেজের একাডেমিক ভিজিটর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নূরুন্নবী।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলে অংশ নেন ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় (ব্যাপেনাস)-এর উপমন্ত্রী এইচই ড. লিওনার্দো এ.এ. তেগুহ সাম্বোদো; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক পরিচালক এবং স্পেনের সাবেক স্বাস্থ্য ও ভোক্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. মারিয়া নেইরা; অস্ট্রেলিয়ার সিকিউনিভার্সিটির অধ্যাপক ওলাভ মুরলিঙ্ক; তুরস্কের ইস্তাম্বুল আয়দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এলিফ কায়া; তুরস্কের ওমুদ-এর জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়নবিষয়ক নেতা মিস উমায় ইয়িলমাজ এবং ক্লাইমেট হাব ইন্টারন্যাশনাল, উগান্ডার কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ক্লিনটন মাওয়ান্ডা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে অভিযোজন ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০০৯ সালে নিজস্ব অর্থায়নে জাতীয় জলবায়ু তহবিল গঠন করে এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং এনডিসি ৩.০-এর অগ্রাধিকারসমূহ বাস্তবায়নে অর্থায়নের প্রয়োজনও ক্রমেই বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় অর্থায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের সুযোগ কার্যকরভাবে কাজে লাগানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিসিসিটি কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৬–২০৩০-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প প্রস্তুত, প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এনডিসি ৩.০-এর অগ্রাধিকারগুলোকে কীভাবে বাস্তব ও বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপ দেওয়া যায় এবং বাংলাদেশ কীভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহ করতে পারে—আজকের আলোচনায় আমরা সে বিষয়েই বিশেষজ্ঞদের মতামত জানতে চাই।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি পরিবেশ দূষণ হ্রাস ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণ কমাতে বৈদ্যুতিক বাস চালুর পাশাপাশি এ ধরনের বাস আমদানিতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে কর কমানো হয়েছে। কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটির ব্যবহার কমাতে খাল খনন থেকে প্রাপ্ত মাটি ইটভাটা ও ব্লক তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ইটভাটাগুলোকে আরও পরিবেশবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং ইট পোড়ানোর কাজে কাঠের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণ ও একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিনের ব্যবহার মোকাবিলায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের উদ্ভাবনী ধারণা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আরও কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে সরকার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের আধুনিকায়নের পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নের উৎস বহুমুখীকরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ও দাতব্য উৎসের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জলবায়ু অর্থায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারমূলক পরিবেশ ও জলবায়ু উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। বিশেষ করে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর ও বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সবুজ কর্মসংস্থানের মতো ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের সঙ্গে কপ৩১-এর গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়গুলোর সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অংশীদারিত্ব এবং জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনডিসি ৩.০-এর আওতায় গৃহীত প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তর এবং এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ওয়েবিনারে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গৃহীত নতুন সমষ্টিগত পরিমাণগত লক্ষ্য বা এনসিকিউজি-এর আওতায় উন্নত দেশগুলোর নেতৃত্বে ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি, বেসরকারি, দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও বিকল্প উৎসসহ সব ধরনের উৎস থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে অন্তত ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার আহ্বান রয়েছে। অন্যদিকে, ২০৩৫ সাল নাগাদ উন্নয়নশীল দেশগুলোর শুধু অভিযোজন অর্থায়নের প্রয়োজনই বছরে প্রায় ৩১০ থেকে ৩৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে।

আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের প্রবাহ অঞ্চলভেদে অত্যন্ত অসম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকা অনেক উন্নয়নশীল দেশ এখনো প্রয়োজনীয় অর্থায়নে পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে না। ফলে এনডিসিতে নির্ধারিত লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারকে সুস্পষ্ট অর্থায়ন পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নযোগ্য ও বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি।

প্যানেল আলোচনায় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে প্রবেশাধিকার এবং জলবায়ু অগ্রাধিকারগুলোকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তরের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। বিশেষভাবে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ), বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবি), প্যারিস চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতাধীন সহযোগিতামূলক উদ্যোগ এবং বেসরকারি মূলধন থেকে অর্থায়নের সুযোগ ও এসব অর্থায়নে প্রবেশের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা হয়।

একই সঙ্গে অভিযোজন ও প্রশমন অগ্রাধিকারগুলোকে অর্থায়নযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তর, কার্যকর ও বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পের পাইপলাইন তৈরি এবং সরকারি, বেসরকারি ও মিশ্র অর্থায়নের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন আকৃষ্ট করতে শুধু অর্থের প্রয়োজন তুলে ধরা যথেষ্ট নয়; প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক গ্রহণযোগ্যতা, বাস্তবায়ন সক্ষমতা, পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রত্যাশিত ফলাফলও সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

আলোচনায় প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, ফলাফলভিত্তিক পরিকল্পনা এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অর্থায়ন কাঠামোর কার্যকর সংযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা মত দেন, জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু অর্থায়নের পরিমাণ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; অর্থের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার, মানসম্মত প্রকল্প প্রস্তুত, বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তুরস্কের আন্টালিয়ায় আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১-এর প্রাক্কালে এ আন্তর্জাতিক সংলাপ জলবায়ু অর্থায়ন, এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কপ৩১-কে বাস্তবায়নকেন্দ্রিক সম্মেলন হিসেবে সামনে রেখে এনডিসি এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলোকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তর এবং সরকারি, বেসরকারি ও মিশ্র উৎস থেকে অর্থায়ন সংগ্রহের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে কপ৩১-এর ক্লাইমেট ইমপ্লিমেন্টেশন ব্রিজ (সিআইবি)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ও অংশীদারিত্ব কীভাবে এনডিসি এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলোকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পের পাইপলাইনে রূপান্তর এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সংগ্রহে সহায়তা করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে কপ৩১-এর আগে জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অংশীদারিত্ব, অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৬–২০৩০-এর আলোকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ, বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পের পাইপলাইন প্রস্তুত, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়টিও ওয়েবিনারে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

ওয়েবিনারের আলোচনা ও সুপারিশ জলবায়ু অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমের অগ্রাধিকার নির্ধারণে সহায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। আলোচনার ভিত্তিতে একটি আউটকাম স্টেটমেন্ট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

‘দ্য রোড টু আনতালিয়া’-এর আওতায় কপ৩১-এর পথে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের সূচনা হিসেবে আয়োজিত এ ওয়েবিনারটি জলবায়ু অর্থায়ন ও এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়ন বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সহযোগী এবং জলবায়ু অর্থায়নসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে সংলাপ ও অংশীদারিত্ব জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

উল্লেখ্য, ওয়েবিনারটি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উদ্বোধনী পর্ব, বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনা এবং উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অন্তর্ভুক্ত ছিল। উপস্থিতি যাচাই সাপেক্ষে অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট অব অ্যাটেনডেন্স প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত