দক্ষিণ আমেরিকায় মাদকচক্রের বিরুদ্ধে স্থল হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

লাতিন আমেরিকায় সক্রিয় মাদকচক্রগুলোর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাদক পাচারে ব্যবহারের অভিযোগে সন্দেহভাজন নৌযান লক্ষ্য করে চলমান বিমান হামলার পাশাপাশি এবার স্থলভাগেও অভিযান সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।  

পানামা সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, যেসব মাদক পাচারকারী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য হুমকি তৈরি করে, তাদের আইএসআইএস ও আল-কায়েদার মতোই বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পরিবহনের অভিযোগে সন্দেহভাজন নৌযান লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান শুরু করে। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১৫ জন নিহত হয়েছেন।

হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেন, মাদকবিরোধী স্থল অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ১৯ দেশের জোটের আলোচনায় রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব অভিযানের পরিধি মাদকচক্র সক্রিয় এমন যেকোনো এলাকায় সম্প্রসারিত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

বুধবার সন্ধ্যায় পানামার জঙ্গলের একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হেগসেথ। তিনি বলেন, ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদকবাহী নৌযানের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলায় যে ধরনের 'অপারেশনাল সক্ষমতা' দেখা গেছে, মিত্রদের সঙ্গে মিলে স্থল অভিযানেও একই ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

হেগসেথ বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য স্থলভাগেও একই ধরনের প্রভাব তৈরি করা। এ কারণেই আমরা ইকুয়েডর, কলম্বিয়া ও অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছি, যাতে মাদক পাচারকারী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই স্থলভাগেও নিয়ে যাওয়া যায়।'

হেগসেথ আরও বলেন, মাদক পাচারে জড়িত কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন যেকোনো গোষ্ঠী মার্কিন অভিযানের বৈধ লক্ষ্য হবে।

তিনি বলেন, 'যে কোনো গোষ্ঠী মাদক পাচারে জড়িত থাকলে কিংবা আমেরিকান জনগণ বা আমাদের মিত্রদের হুমকির মুখে ফেললে, তারা ইসলামিক স্টেট বা আল-কায়েদার মতোই বৈধ লক্ষ্য হবে।'

'আমেরিকান অ্যালায়েন্স অ্যাগেইনস্ট ড্রাগ কার্টেলস' নামে পরিচিত এই জোটে আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, হন্ডুরাস ও পেরুসহ কয়েকটি দেশ রয়েছে। এসব দেশের বেশ কয়েকটিতে ডানপন্থী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।

তবে শক্তিশালী মাদক কার্টেলগুলোর অন্যতম ঘাঁটি মেক্সিকো এই জোটে যোগ দেয়নি। দেশটিতে বামঘেঁষা সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।

এদিকে মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, এসব হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পর্যায়ে পড়তে পারে।

তবে হেগসেথ এসব অভিযান সমর্থন করে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে থাকা সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করে আমরা এসব নেটওয়ার্কের পিছু নেব এবং তাদের নির্মূল করব।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত