পদ্মা সেতুর বাঁধের কারণে জলাবদ্ধ মেদিনীমন্ডল গ্রাম

এক দশকেও হয়নি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

পদ্মা সেতু দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় এনেছে যুগান্তকারী এক পরিবর্তন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের এই সেতু বদলে দিয়েছে অর্থনীতি ও যাতায়াতের চিত্র। তবে এই উন্নয়নের কারণে বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তের মেদিনীম-ল গ্রামের প্রায় ৩০০ পরিবার। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পর পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে নদীশাসনের কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর। এ সময় প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ভুক্তভোগী তুষার শেখ জানান, পদ্মা সেতু হয়েছে কিন্তু কোনো ড্রেনেজব্যবস্থা না থাকায় এখানে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আমরা প্রায় চারশতাধিক পরিবার এভাবে পানিবন্দি হয়ে জীবনযাপন করছি।

জ্যোৎস্না বেগম জানান, পদ্মা সেতু হওয়ার পর থেকে এখানে পানি জমে থাকে। পানি নামতে না পারার কারণে বাঁশের সাঁকো দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়।

জলাবদ্ধ এলাকার বাসিন্দা সেলিম জানান, ঘরের চারপাশে জমে থাকা পানি শুকায় না। শিশু ও বয়ষ্কদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে দিনের বেলাতেও অনেক পরিবারকে মশারি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

আরেক ভুক্তভোগী আবুল হোসেন বলেন, ‘উন্নয়নের জন্য আমরা ঘরবাড়ি ছেড়েছি, পুনর্বাসিত হয়েছি। ভেবেছিলাম নতুন জীবন পাব। কিন্তু এখন পানি, মশা আর রোগের সঙ্গে লড়াই করেই দিন কাটাতে হচ্ছে। শেফালী বেগম জানান, বারবার জানানো হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত