বাবা-মাকে পিটিয়ে হাসপাতালে, কান্নায় ভেঙে পড়লেন ছেলে 

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারী ও তার স্বামীকে মারধর, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া, মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাবিবুর রহমান ও হোসেনে আরা দম্পতির একমাত্র ছেলে উৎসব। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হোসনে আরা (৫৪) বাদী হয়ে গত ১৬ আগস্ট ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট দুপুর ১টার দিকে উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের ফতেপুর এলাকায় নিজ বসতবাড়িতে যাওয়ার পথে একই এলাকার মোছা. খাদিজা আক্তার (৩৩) ও মো. জহিরুল ইসলাম (৫২) তার পথরোধ করেন। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।  

একপর্যায়ে জহিরুল ইসলাম তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, টেনে ছিঁড়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হোসনে আরা জানান, চেইনটি উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাকে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। একই সময় খাদিজা আক্তার তার দুই কানে থাকা প্রায় ৪ আনা ওজনের একজোড়া স্বর্ণের দুল নিয়ে যান। এ ছাড়া জহিরুল ইসলাম তার হাতে থাকা একটি আইটেল বাটন ফোন মাটিতে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হোসনে আরার স্বামী হাবিবুর রহমানকেও মারধর করা হয়। পরে অভিযুক্তরা বসতঘর থেকে ধারালো দা এনে তাদের ধাওয়া করলে তারা দৌড়ে নিজেদের ঘরে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন বলে জানান হোসনে আরা। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে মারধর ও হত্যার হুমকি দেন এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির ভয় দেখান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয় লোকজন আহত হোসনে আরা ও তার স্বামীকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে হোসনে আরার ছেলে উৎসব বলেন, 'আমি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করি। আমাদের পরিবারে আমি একমাত্র ছেলে। আমার একটি বোন আছে, কিন্তু বাবা-মা বাড়িতে একাই থাকেন। তাদের ওপর এমন নির্মম হামলার খবর শুনে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। আমাদের কোনো প্রভাব বা ক্ষমতা নেই বলেই হয়তো আমার অসহায় বাবা-মায়ের ওপর এভাবে হামলা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।' 

এ ঘটনায় হোসনে আরা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলেও তাদের খোঁজে পাওয়া যায়নি এবং তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল দিলেও সাড়া মেলিন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, 'এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত