দৌলতপুরে ভয়াবহ নদীভাঙন, হুমকিতে ২০০ বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধের পাশাপাশি পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম

গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে ও যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে  মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায়  ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের বাকসাইষ্টা, চরভারেঙ্গা, সুবুদদিয়া, চরবাচামারা, জিয়নপুর ইউনিয়নের আমতলী হাট, আমতলী ফেদু সেক উচ্চ বিদ্যালয়, আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,আবু ডাংগা, বড়টিয়া, বৈন্যা এলাকায় প্রায় ৩০০টি বসতবাড়ি, তিন শতাধিক দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিএনপি নেতা ও আমতলী হাটের ইজারদার আশরাফ আলী জানান, যমুনার একটি শাখা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বৈন্যা গ্রামের অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত জিয়নপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, নদীভাঙনে আমরা  দিশেহারা। চোখের সামনে বাপ-দাদার শেষ স্মৃতিটুকু রক্ষা করতে পারছি না।  

সাবেক মেম্বারের স্ত্রী ছকিনা বেগম বলেন,  পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, কী করব—কিছুই বুঝতে পারছি না। নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে বৈন্যা গ্রামের মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা  করার দাবি জানান

স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম বলেন, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা না হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমতলী হাট, ফেদু সেক উচ্চ বিদ্যালয় ও আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বৈন্যা গ্রামের প্রায় ২০০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে গ্রামের প্রধান সংযোগ সড়ক, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হবি বলেন, প্রায় ৫০০ ফুট এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হলে প্রায় ২০০ পরিবারকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এতে আমতলী হাট ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রক্ষা পাবে। নদী থেকে মাত্র প্রায় ২০০ গজ দূরে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির দিকে যেভাবে ভাঙন এগোচ্ছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সেগুলো নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংরক্ষিত ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম বলেন, আর কয়েকদিন এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে আমার বাড়িঘরও নদীভাঙনের মুখে পড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও বসতভিটাসহ সবকিছু রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতোয়ার রহমান জানান, নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধের পাশাপাশি পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, বিষয়টি আমি অবগত আছি। জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।  ভাঙন রোধে দ্রুত  ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নদীপাড়ের মানুষের দাবি, দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শত শত পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত