অনিয়মের অভিযোগে হাতিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষক বরখাস্ত

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০ এএম

শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অনিয়ম, নৈতিকতাবিরোধী আচরণ, নারীঘটিত অপকর্মের অভিযোগ, শিক্ষক-হাযিরা খাতা ছিঁড়ে ফেলা ও সহকর্মীদেরকে হুমকি দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় নোয়াখালীর হাতিয়ার ম্যাকপার্শ্বন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন অর রশিদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। হাতিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল জব্বার বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ১৮ আগস্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবীব স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষক মামুন অর রশিদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়,মামুন অর রশিদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকের সঙ্গে কোন্দলে জড়ানো, অফিসে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি, নৈতিকতাহীন আচরণের ছবি মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ, বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষক-হাযিরা খাতা ছিঁড়ে ফেলা, সহকর্মীদেরকে হুমকি দেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে শিক্ষকদেরকে ফোন করার মতো অভিযোগ উঠেছে।

এসব ঘটনায় শিক্ষক মামুন অর রশিদের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দুই জন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। প্রথম দফায় ১৬ জুন ও দ্বিতীয় দফায় ২৪ জুন তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। পরে ৩০ জুলাইয়ে এক অফিস  আদেশে মামুন অর রশিদকে ৩ আগস্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত  হয়ে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি  নির্ধারিত দিনে  শুনানিতে উপস্থিত হননি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল জব্বার বলেন, সহকারী শিক্ষক মামুন অর রশিদকে বরখাস্তের আদেশ তার চাকরি বইয়ে লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বরখাস্তের আদেশের এক কপি বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকের স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইশরাত নাসিমা হাবীব বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অনিয়মের অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী  বিধিমালা  অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত