শিক্ষা ব্যবস্থা শুধু সনদ অর্জনের মাধ্যম নয় বরং এর মূল উদ্দেশ্য হতে হবে সুনাগরিক গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী ও কর্মক্ষম হিসেবে প্রস্তুত করা বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ‘ভাইস চ্যান্সেলরস ডায়ালগ: শেপিং দ্য ফিউচার অফ হায়ার এডুকেশন’ শীর্ষক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও দীর্ঘ ধারাবাহিক আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষা ব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা, সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক রূপকল্প তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার অংশ হিসেবে নারীদের জন্য স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ঘোষণা করা হয়েছে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ছাত্রীদের উপবৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সেকেলে পাঠ্যক্রম পরিহার করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী ও জীবনমুখী করতে অংশীজনদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে নিয়মিত পরিমার্জন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল সাক্ষরতা বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো ৩ মাস মেয়াদী ঐচ্ছিক মাইক্রো-কোর্স চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত ২টি বা ৩টি বিদেশি ভাষা শিক্ষার কেন্দ্র চালুর তাগিদ দেওয়া হয়।
সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সারা বছর আন্তঃ ও অন্তঃপ্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতা, বিতর্ক, বিজ্ঞান ক্লাব, স্কাউটস ও বিএনসিসি কার্যক্রম সক্রিয় রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও পেশাগত সহায়তায় ক্যাম্পাসে খণ্ডকালীন কাজ করার সুযোগ তৈরি, ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপন এবং নিখরচায় জব ফেয়ারের আয়োজনের ওপর জোর দেওয়া হয়। মেধা পাচার বা 'ব্রেইন ড্রেন' রোধ করে একে 'ব্রেইন সার্কুলেশন'-এ রূপান্তরের লক্ষ্যে বিদেশে কর্মরত প্রবাসী শিক্ষক ও গবেষকদের দেশে অতিথি শিক্ষক হিসেবে যুক্ত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি ক্রেডিট ট্রান্সফার সহজীকরণ, সামার স্কুল প্রোগ্রাম চালু এবং গবেষণার মান বৃদ্ধির কথা বলা হয়।
দেশের প্রধান শক্তি জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে তরুণ সমাজকে দক্ষ ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপরই গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ভর করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত ও আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনে সরকার সব ধরনের নীতিগত সহায়তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের আইনি প্রক্রিয়া চলমান: মাহদী আমিন