আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলকে দখল ও দূষণমুক্ত করে এর আগের রূপ ফিরিয়ে আনা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর সেকশন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। ঢাকা জেলা প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আগে বিডি ক্লিনের সদস্যসহ উপস্থিত অংশীজনদের শপথবাক্য পাঠ করান মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাল ও নদীগুলোকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখা অপরিহার্য। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের এই যৌথ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এর সুফল ভোগ করবেন।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে আগের রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় চ্যানেলটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার প্রাচীন জলধারাগুলোর অন্যতম আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। এর প্রায় ১ হাজার ফুট অংশ দূরানী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়। দীর্ঘদিন দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে চ্যানেলটির বিভিন্ন অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষায় ঢাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হতে থাকে। বিভিন্ন অংশে দখল ও বর্জ্য জমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে চ্যানেলটির সংশ্লিষ্ট অংশ দখলমুক্ত করা হয়।
বর্তমানে চ্যানেলটিকে পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব জলাধারে রূপ দিতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগে চ্যানেল ও সংলগ্ন এলাকার জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চ্যানেলের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জলাধারটির পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচল ও অবসর সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান ও ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।