বাংলাশেদ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, পার্থসহ চারজন নতুন সদস্য মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন এবং তাদের রাতে বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভোলাজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পার্থকে মন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় ভোলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন দাবিগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে রয়েছে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, জেলার গ্যাসসম্পদের কার্যকর ব্যবহার, শিল্পায়ন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, নদীভাঙন রোধ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্প। জেলার মানুষ মনে করছেন, জাতীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ভোলার একজন সংসদ সদস্য থাকলে এসব দাবি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে বাড়তি গুরুত্ব তৈরি হতে পারে।
মন্ত্রিসভায় পার্থকে যুক্ত করার আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। গত কয়েক দিন ধরেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার নাম আলোচনায় ছিল। ১৪ আগস্টের এক প্রতিবেদনে তাকে সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকার কথা প্রকাশ করা হয়। রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত মুখ। তার বাবা প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জু ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র। ১৯৮৬ সালে তিনি ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করে আন্দালিব রহমান পার্থ নিজেও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবার ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। চলতি বছরের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে জয়ী হয়ে আবার সংসদে ফেরেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাশেদ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যানের পাশাপাশি ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য। সংসদীয় কার্যক্রমেও তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ভোলার দাবিতে পার্থর ভূমিকা নিয়ে প্রত্যাশা ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। মেঘনা নদীবেষ্টিত দ্বীপজেলা ভোলার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার দাবি বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সামনে এসেছে। পার্থও সংসদে ভোলার মানুষের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন। ফলে মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তির খবর ভোলাবাসীর কাছে শুধু একজন সংসদ সদস্যের মন্ত্রী হওয়ার বিষয় নয়, বরং জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক সম্ভাবনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে অনেকে পার্থকে মন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। বিভিন্ন পোস্ট ও আলোচনায় উঠে আসছে—ভোলার উন্নয়ন, বিশেষ করে ভোলা-বরিশাল সেতু, গ্যাসভিত্তিক শিল্পায়ন ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বড় উদ্যোগ দেখতে চান তারা।
অপেক্ষা এখন আনুষ্ঠানিকতার শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে মন্ত্রিসভায় নতুন চার সদস্য যুক্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করা হলেও পার্থ কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে প্রকাশ্য সরকারি ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ের নাম চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত মন্তব্য না করাই সতর্ক অবস্থান।
তবে মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তির খবর সত্য হলে ভোলার জন্য এটি হবে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। কারণ দীর্ঘদিন পর জেলার একজন সংসদ সদস্য জাতীয় সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন ভোলাবাসীর সৃষ্টি বঙ্গভবনের দিকে। রাতে শপরে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে অবসান ঘটবে অপেক্ষার। আর পার্থ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলে জেলার দীর্ঘদিনের দাবি ও মানুষের প্রত্যাশা কতটা বাস্তবায়নের পথে এগোয় সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে পুরো ভোলা।
নতুন ৪ মুখ যুক্ত হচ্ছেন মন্ত্রিসভায়, রাতে বঙ্গভবনে শপথ