দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ গ্রহণ করেছেন । তাকে শপথ পড়ান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
এ দিন বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দুপুরে তিনি জুমার নামাজ পড়েন বেইলি রোডের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে। সেখান থেকে ১টা ৪৬ মিনিটে সরাসরি আসেন শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবরে। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করেন এবং মোনাজাত করেন।
রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বিএনপি মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কবরে বহুবার দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছেন।
এ সময় তার সাথে ছিলেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব ইউনুস আলী।
এ সময় কবর প্রাঙ্গণের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে উপস্থিত দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর দুইটা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করে।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ১১ ধারা অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে।
রাষ্ট্রপতির পদে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার ওপর অর্পিত সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
তৃণমূলের ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক যাত্রা দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য। দীর্ঘ সময় বিএনপির মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালনকারী এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে তিনি এবার রাষ্ট্রের শীর্ষপদে আসীন হলেন।
ছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রপতি, মির্জা ফখরুলের বর্ণাঢ্য জীবন
কখনো ভাবিনি রাষ্ট্রপতি হব