নতুন গানে রাষ্ট্রের কাছে দাবি সায়ানের

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে নতুন ভাবনার নতুন একটি গান প্রকাশ করবেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান। ২০২১ সালে তৈরি করা ‘এই মাটিতে সমান সব’ শিরোনামের গানটি এতদিন প্রকাশ না করলেও আগামী ১৪ অক্টোবর অবমুক্ত করা হবে।  বরাবরের মতোই গানের কথা ও সুর সায়ানের। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন শফিকুজ্জামান শাওন, আর ভিডিও বানিয়েছেন সুরঞ্জিত কুমার রক্ষিত। এই গান নিয়ে নিজের কিছু ভাবনা তুলে ধরেছেন সায়ান, মানুষের প্রতি জানিয়েছেন কিছু আহ্বান; আর রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরেছেন দাবি। শুরুতে বললেন গানটির প্রেক্ষাপট আর নিজের ভাবনা নিয়ে। 

সায়ানের ভাষ্য, ‘এটা ধর্ম নিয়েই গান। আমি মুসলমান পরিবারে জন্মেছি। আমার সেই পরিচয়কে আমি কখনোই আড়াল করতে চাই না। ধর্মকে আমি সবচেয়ে বেশি শিখেছি, বুঝেছি আমার মা আর নানির কাছে। তারা রোজার সময় রোজা করতেন, আর পূজার সময় বেশি করে আমাদের ছোটদের মনে করাতেন, ‘খবরদার, ভুলেও কখনো এটা ভেবো না, মুসলমান বলে তুমি হিন্দুর চেয়ে বড় কিংবা উত্তম!’ তারা শিখিয়েছে, শুধু হিন্দু নয়, আর যে কোনো ধর্মের মানুষের বেলায়ও এ কথাই প্রযোজ্য! অনেকেই ধর্মের কথা বলেছেন। এখনো পর্যন্ত আমার মা-নানির কথাই আমার প্রাণকে সবচেয়ে বেশি ছুঁয়েছে। যে ধর্মকথা আর কাউকে ছোট করাতে অধিক সময় ব্যয় করে, সেই ধর্মকথা তাই আমার প্রাণকে টানে না।’

সায়ানের মতে, বাংলাদেশে মুসলমানের সংখ্যা বেশি, তার মানে এই নয়, তারা অন্যদের চেয়ে বড়। শিল্পী বলেন, ‘সংখ্যায় বেশি হলেই কেউ কারোর চেয়ে বড় হয় না, কারোর সেই মাটিতে হক বেশি হয় না, এটাই আমার সহজ সরল বিশ্বাস, অবস্থান এবং মূল্যবোধ। মাটির মধ্যে কারোর ধর্ম পরিচয় লেখা থাকে না। মানুষ আসলে স্রেফ একজন মানুষ হয়েই জন্মায়, তার বেশি নয়। তারপরে সে আবিস্কার করে, তার কোথায় জন্ম, কোন দেশে, কোন সম্প্রদায়ে, কোন ধর্মে এবং সে অঞ্চলে তারা কি সংখ্যায় বেশি না কম। এই বেশি-কম দিয়ে মাটির পরিচয়টাই যে মানুষ নির্ধারণ করে দেয়, সেটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমার কাছে তাই মুসলমানের মাটি বা হিন্দুর মাটি বা খ্রীষ্টানের মাটি বলে কিছু নেই। মাটি হলো মাটি। আর মানুষ হলো মানুষ। আমি ঘটনাচক্রে কোনো একটা মাটিতে, কোনো এক দল মানুষের সমাজের ভেতরে জন্মে গিয়েছি।’

নিজের মনোভাবনার মধ্য দিয়ে অন্যদের প্রতি সায়ান যেন এই আহ্বান জানালেন, মুসলমান পরিবারে জন্ম নিলেই কেউ কারোর চেয়ে বড় হয়ে যায় না। শিল্পীর ভাষ্য, ‘ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে আক্রমণ করা যাবে না। কাউকে অপমান, অসম্মান, ছোট করা যাবে না। কাউকে দুঃখ দেয়া যাবে না। কার ধর্ম কী, তা সে কতটুকু মানবে, নাকি মানবে না, এটা তার ব্যাপার।’সবশেষে রাষ্ট্রের কাছে নিজের দাবি তুলে ধরেন সায়ান। জানান ‘রাষ্ট্রের কাছে এটাই প্রত্যাশা, সে যে কোনো ব্যক্তির ধর্ম মানার কিংবা না মানার অধিকারকে নিশ্চিত করবে। যারা মানবেন, যা কিছু আয়োজন করবেন, তার জন্য সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চাই।’ সম্প্রীতি নিশ্চিত করার জন্য সকল পদক্ষেপে রাষ্ট্রকে উৎসাহী ভূমিকায় চাই। বরং যাকে আমরা সংখ্যালঘু ভাবছি (যদিও এটা কোন মানুষের পরিচয় হতে পারে না), তার প্রতি যত্ন বেশি হলেই খুশি হবো। কেননা সমাজটাই এমন, এখানে মানুষ একটা মাত্র মানুষ হয়ে জন্মায়, তারপর সংখ্যার জোরে, যারা সংখ্যায় কম, তাদের ওপর দমন-পীড়ন করে। এমনটা যে ঘটতে পারে, এটা ধরে নিয়েই, যে সংখ্যায় কম, আমি তার প্রতি রাষ্ট্রকে আরো অধিক যত্নবান হবার দিকে এগিয়ে নিতে চাই। তার দায়িত্ব সরকারেরই। আর নাগরিক হিসাবে আমারও।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত